আজঃ ২রা কার্তিক ১৪২৫ - ১৭ই অক্টোবর ২০১৮ - সন্ধ্যা ৭:০২

ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতির বহিষ্কার দাবি জানিয়েছে সাবেক ছাত্রনেতারা

Published: অক্টো ০১, ২০১৮ - ১২:৫১ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসকে বহিষ্কার করার দাবি করেছেন সংগঠনের সাবেক নেতারা।

রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে সংগঠন থেকে সঞ্জিত চন্দ্র দাসকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।

এসময় শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে আছেন হাসানুজ্জামান লিটন, হেমায়েত উদ্দিন, সোহেল রানা মিঠ, শিহাবুজ্জামান শিহাব, নাজমুল হুদা ওয়ারেশি চঞ্চল, মামুনুর রশীদ মামুন, রেজাউল হাসান রেশিম, সায়েম খান, মাকসুদ রানা মিঠু, আসাদুজ্জামান নাদিম, শেখ তুহিন প্রমুখ।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু বলেন, রুহুল আমিন দুঃসময়ের কর্মী হিসেবে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে। তার ওপর অন্যায় হয়েছে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে দোষীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, বিষয়টি নেত্রীকে জানানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তিনি দেশে না থাকায় আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানাই।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিষয়টি আমরা জানি। চরম অন্যায় করেছে সে। আমাদেরও খারাপ লেগেছে। নেত্রী দেশে ফিরলে, তার সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সঞ্জিত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলছেন, তিনি রুহুল আমিনকে মারেননি। তবে ‘পোলাপানের সাথে’ তার সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছেন। তখন তিনি গিয়ে ঝামেলা ‘মিটিয়ে দিয়ে’ এসেছেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে রুহুল আমিন তার বড়ভাই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিমের শাশুড়ির মরদেহ নিতে তার অন্ত:সত্ত্বা ভাবিকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটে ওঠেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের বড়ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে সনজিতের কয়েকজন অনুসারীও লিফটে ওঠেন। লিফটে ওভার লোডের কারণে রুহুল আমিন সনজিত চন্দ্র দাসের কিছু অনুসারীকে লিফট থেকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এতে সনজিতের ভাইয়ের সঙ্গে রুহুলের কথা কাটাকাটি হয়।

সনজিতের ভাই এই ঘটনা তাকে জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০-২৫জন নেতাকর্মী রুহুল আমিনকে মারধর করে এবং তার ভাইয়ের শাশুড়ির লাশসহ তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন। এরপর ভবনের আট তলায় উঠে রুহুল আমিনকে মারতে মারতে নিচে নামায়। সেখানে আরেক দফায় তাকে মারধর করা হয়। এতে রুহুল আমিনের নাক মুখ ফেটে যায়। কয়েকটি হাসপাতাল বদলের পর আহত রুহুল আমিন বর্তমানে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসকে বহিষ্কার করার দাবি করেছেন সংগঠনের সাবেক নেতারা।

রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে সংগঠন থেকে সঞ্জিত চন্দ্র দাসকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।

এসময় শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে আছেন হাসানুজ্জামান লিটন, হেমায়েত উদ্দিন, সোহেল রানা মিঠ, শিহাবুজ্জামান শিহাব, নাজমুল হুদা ওয়ারেশি চঞ্চল, মামুনুর রশীদ মামুন, রেজাউল হাসান রেশিম, সায়েম খান, মাকসুদ রানা মিঠু, আসাদুজ্জামান নাদিম, শেখ তুহিন প্রমুখ।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু বলেন, রুহুল আমিন দুঃসময়ের কর্মী হিসেবে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে। তার ওপর অন্যায় হয়েছে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে দোষীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, বিষয়টি নেত্রীকে জানানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তিনি দেশে না থাকায় আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানাই।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিষয়টি আমরা জানি। চরম অন্যায় করেছে সে। আমাদেরও খারাপ লেগেছে। নেত্রী দেশে ফিরলে, তার সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সঞ্জিত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলছেন, তিনি রুহুল আমিনকে মারেননি। তবে ‘পোলাপানের সাথে’ তার সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছেন। তখন তিনি গিয়ে ঝামেলা ‘মিটিয়ে দিয়ে’ এসেছেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে রুহুল আমিন তার বড়ভাই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিমের শাশুড়ির মরদেহ নিতে তার অন্ত:সত্ত্বা ভাবিকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটে ওঠেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের বড়ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে সনজিতের কয়েকজন অনুসারীও লিফটে ওঠেন। লিফটে ওভার লোডের কারণে রুহুল আমিন সনজিত চন্দ্র দাসের কিছু অনুসারীকে লিফট থেকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এতে সনজিতের ভাইয়ের সঙ্গে রুহুলের কথা কাটাকাটি হয়।

সনজিতের ভাই এই ঘটনা তাকে জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০-২৫জন নেতাকর্মী রুহুল আমিনকে মারধর করে এবং তার ভাইয়ের শাশুড়ির লাশসহ তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন। এরপর ভবনের আট তলায় উঠে রুহুল আমিনকে মারতে মারতে নিচে নামায়। সেখানে আরেক দফায় তাকে মারধর করা হয়। এতে রুহুল আমিনের নাক মুখ ফেটে যায়। কয়েকটি হাসপাতাল বদলের পর আহত রুহুল আমিন বর্তমানে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর