আজঃ ৫ই কার্তিক ১৪২৫ - ২০শে অক্টোবর ২০১৮ - সকাল ৭:১০

ডেথ রেফারেন্স মামলা বাড়ছে

Published: অক্টো ১৪, ২০১৮ - ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ২০১০ সাল থেকে কারাগারে আছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার মফিজ খন্দকার ওরফে ডগু খন্দকার (৫২)।

এ মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) নিষ্পত্তি না হওয়ায় কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি।

জেলা শহরের লিয়াকত হাসান মোল্লার মেয়ে কলেজছাত্রী সাদিয়া নুর মিতা হত্যার দায়ে বিচারিক আদালত মফিজ খন্দকারসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

এরপর মামলাটি ডেথ রেফারেন্সের জন্য হাইকোর্টে আসে। সেখানে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল যুগান্তরকে বলেন, ‘কনডেম সেলে ফাঁসির আসামিরা মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করতে থাকেন। তাই দ্রুত এসব মামলা নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।’

বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিলে সেটিকে কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটাকেই ডেথ রেফারেন্স বা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন বলা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা বাড়ায় চাপে আছে হাইকোর্টে।

হাইকোর্টের তিনটি ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি করে থাকে। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এসব মামলা শুনানির জন্য বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন। এসব বেঞ্চে ২০১০ সালে নিু আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের মামলাও রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হলেও সাধারণ মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তির হার ছিল খুবই কম। সারা দেশে কারাগারের কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন প্রায় দেড় হাজার কয়েদি।

গুরুতর অপরাধের দায়ে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দেশের নিু আদালত এসব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য জেলা জজ ও দায়রা আদালত থেকে পাঠানো ৭০০টি ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে মামলার সংখ্যা ছিল ৬৪০টি। গেল নয় মাসে দায়ের হয়েছে ১১৭টি। আর এসব মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫৭টি। আদালত সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আলোচিত রমনা বটমূলে বোমা হামলা, কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলা, টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলা ও রংপুরের খাদেম হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও সাজাপ্রাপ্তদের আপিল হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক ফরহাদ খান দম্পতি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

ডেথ রেফারেন্স মামলা নিয়ে এই অবস্থা সৃষ্টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত পেপারবুক তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো রকম লম্বা মুলতবি ছাড়া শুনানি অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া বিশেষ বেঞ্চ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ বিচারপতির সংখ্যা বড়াতে হবে।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ডেথ রেফারেন্স মামলা জটের অন্যতম কারণ হল বিচারিক আদালতে ঢালাওভাবে ফাঁসির আদেশ দেয়া। হাইকোর্টে ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ বিচারকের সংকট রয়েছে।

অনেক বিচারক আছেন ডেথ রেফারেন্স মামলা শুনতে চান না। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার আমলে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হয়। এ ধারা অব্যাহত রাখতে আরও বেঞ্চ গঠন প্রয়োজন।

দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনেক নির্দোষ ব্যক্তিকেও বছরের পর বছর কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে। কারণ অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তির বিচারিক আদালতে সাজা হয়। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়াকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ডেথ রেফারেন্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত পেপারবুক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি করতে হলে কোনো রকম মুলতবি না দিয়ে শুনানি অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি বিচারক নিয়োগেরও প্রয়োজন রয়েছে।’

ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তিতে দক্ষ বিচারপতির প্রয়োজন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে শুধু বেঞ্চ বাড়ালে চলবে না, দক্ষ বিচারপতিরও প্রয়োজন আছে। কারণ এখানে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত।’ দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ যথানিয়মে কাজ করছে বলেও জানান রাষ্ট্রের প্রধান এ আইন কর্মকর্তা।

জানা যায়, ২০১০ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা ছিল ৫৮৫টি, এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৩টি, বিচারাধীন থাকে ৫৪২টি। ২০১১ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৯টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৭৪টি, বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি।

২০১২ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯৫টি। নিষ্পত্তি হয় ১৪৫টি, বিচারাধীন থাকে ৪৫০টি। ২০১৩ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৩টি। নিষ্পত্তি হয় ১১১টি, বিচারাধীন থাকে ৪০৬টি। ২০১৪ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৯৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১৩৫টি, বিচারাধীন থাকে ৩৬৩টি। ২০১৫ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৭৭টি।

নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৫৮টি, বিচারাধীন থাকে ৪১৯টি। ২০১৬ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৫টি। বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি। গত বছর মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০৬টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৬৬টি। বিচারাধীন থাকে ৬৪০টি। আর গত ৯ মাসে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০টি, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ ও চলতি বছর যে সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, দায়ের হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি। আর এ কারণে নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে।

এতে একদিকে যেমন দোষী ব্যক্তির শাস্তি বিলম্বিত হচ্ছে, তেমনি দোষ প্রমাণ না হলে নির্দোষ ব্যক্তিকেও দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাবরণ করতে হচ্ছে।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ২০১০ সাল থেকে কারাগারে আছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার মফিজ খন্দকার ওরফে ডগু খন্দকার (৫২)।

এ মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) নিষ্পত্তি না হওয়ায় কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি।

জেলা শহরের লিয়াকত হাসান মোল্লার মেয়ে কলেজছাত্রী সাদিয়া নুর মিতা হত্যার দায়ে বিচারিক আদালত মফিজ খন্দকারসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

এরপর মামলাটি ডেথ রেফারেন্সের জন্য হাইকোর্টে আসে। সেখানে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল যুগান্তরকে বলেন, ‘কনডেম সেলে ফাঁসির আসামিরা মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করতে থাকেন। তাই দ্রুত এসব মামলা নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।’

বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিলে সেটিকে কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটাকেই ডেথ রেফারেন্স বা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন বলা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা বাড়ায় চাপে আছে হাইকোর্টে।

হাইকোর্টের তিনটি ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি করে থাকে। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এসব মামলা শুনানির জন্য বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন। এসব বেঞ্চে ২০১০ সালে নিু আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের মামলাও রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হলেও সাধারণ মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তির হার ছিল খুবই কম। সারা দেশে কারাগারের কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন প্রায় দেড় হাজার কয়েদি।

গুরুতর অপরাধের দায়ে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দেশের নিু আদালত এসব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য জেলা জজ ও দায়রা আদালত থেকে পাঠানো ৭০০টি ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে মামলার সংখ্যা ছিল ৬৪০টি। গেল নয় মাসে দায়ের হয়েছে ১১৭টি। আর এসব মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫৭টি। আদালত সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আলোচিত রমনা বটমূলে বোমা হামলা, কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলা, টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলা ও রংপুরের খাদেম হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও সাজাপ্রাপ্তদের আপিল হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক ফরহাদ খান দম্পতি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

ডেথ রেফারেন্স মামলা নিয়ে এই অবস্থা সৃষ্টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত পেপারবুক তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো রকম লম্বা মুলতবি ছাড়া শুনানি অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া বিশেষ বেঞ্চ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ বিচারপতির সংখ্যা বড়াতে হবে।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ডেথ রেফারেন্স মামলা জটের অন্যতম কারণ হল বিচারিক আদালতে ঢালাওভাবে ফাঁসির আদেশ দেয়া। হাইকোর্টে ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ বিচারকের সংকট রয়েছে।

অনেক বিচারক আছেন ডেথ রেফারেন্স মামলা শুনতে চান না। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার আমলে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হয়। এ ধারা অব্যাহত রাখতে আরও বেঞ্চ গঠন প্রয়োজন।

দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনেক নির্দোষ ব্যক্তিকেও বছরের পর বছর কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে। কারণ অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তির বিচারিক আদালতে সাজা হয়। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়াকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ডেথ রেফারেন্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত পেপারবুক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি করতে হলে কোনো রকম মুলতবি না দিয়ে শুনানি অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি বিচারক নিয়োগেরও প্রয়োজন রয়েছে।’

ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তিতে দক্ষ বিচারপতির প্রয়োজন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে শুধু বেঞ্চ বাড়ালে চলবে না, দক্ষ বিচারপতিরও প্রয়োজন আছে। কারণ এখানে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত।’ দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ যথানিয়মে কাজ করছে বলেও জানান রাষ্ট্রের প্রধান এ আইন কর্মকর্তা।

জানা যায়, ২০১০ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা ছিল ৫৮৫টি, এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৩টি, বিচারাধীন থাকে ৫৪২টি। ২০১১ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৯টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৭৪টি, বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি।

২০১২ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯৫টি। নিষ্পত্তি হয় ১৪৫টি, বিচারাধীন থাকে ৪৫০টি। ২০১৩ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৩টি। নিষ্পত্তি হয় ১১১টি, বিচারাধীন থাকে ৪০৬টি। ২০১৪ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৯৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১৩৫টি, বিচারাধীন থাকে ৩৬৩টি। ২০১৫ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৭৭টি।

নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৫৮টি, বিচারাধীন থাকে ৪১৯টি। ২০১৬ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৫টি। বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি। গত বছর মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০৬টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৬৬টি। বিচারাধীন থাকে ৬৪০টি। আর গত ৯ মাসে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০টি, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ ও চলতি বছর যে সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, দায়ের হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি। আর এ কারণে নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে।

এতে একদিকে যেমন দোষী ব্যক্তির শাস্তি বিলম্বিত হচ্ছে, তেমনি দোষ প্রমাণ না হলে নির্দোষ ব্যক্তিকেও দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাবরণ করতে হচ্ছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর