আজঃ ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ - ১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং - সকাল ৮:৫৯

জাফর ইকবালকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বারবার

Published: Mar 03, 2018 - 11:56 pm

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। তারও প্রায় এক বছর আগে একটি জঙ্গি সংগঠনের নামে পাঠানো চিঠিতে যে ১০ জনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয় তাতেও জাফর ইকবালের নাম ছিল।

এর বাইরেও সামাজিক মাধ্যমে উগ্রপন্থীদের বিভিন্ন গ্রুপেও বরেণ্য এই মানুষটিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং হুমকি দেয়া হতো নিয়মিত।

এসব হুমকির ঘটনায় দুই বছর আগে থেকেই সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে। আর পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। আর এতে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হামলার পর পর সন্দেহভাজন যুবককে জাফর ইকবালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরকেও আহত করে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করে। কিন্তু ছাত্ররা হামলাকারীকে ধরে মারধোর করে অচেতন করে ফেলে। ফলে তার কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

শনিবার বিকাল পাঁচটার সময়ে ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হয়ে যান জাফর ইকবা। সেখানেই হামলা হয় তার ওপর।

হামলার পরপরই ওই তরুণকে ধরে ফেলা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তরুণকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রাখা হয়।

২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তায় লেখা ছিল Hi Unbeliever! We will strangulate you soon’।

এর আগে ২০১৫ সালের ২১ মে ডাকযোগে পাঠানো ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠিতে মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ১০ বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকি দেয় আল কায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলাটিম।

আর পুলিশ সদরদপ্তরের সিদ্ধান্তে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে জাফর ইকবালকে সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তখন দিনের বেলায় দুজন এবং রাতে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়।

পুলিশ মোতায়েন থাকা অবস্থায় জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় বাহিনীটির কর্মীদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বাহিনীটির কর্মকর্তারা তা স্বীকার করতে নারাজ।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক সহেলী ফেরদৌস ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জাফর ইকবালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। সব সময়ে তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা থাকত। হামলার সময়েও তিনজন পুলিশ ছিল জাফর ইকবালের সঙ্গে।’

‘তাঁর উপরে হামলার পর ওই যুবককে ধরে ফেলেছিল তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু ওই যুবক তিনজন পুলিশ সদস্যদেরকে আহত করেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মঞ্চে থাকা ছাত্রদের পিটুনিতে সেও গুরুতর আহত হয়। ’

পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ব্যর্থতা কার-এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্টের উপরে তো হামলা হয়েছিল। তাহলে কী তাঁর নিরাপত্তায় কোন ঘাটতি ছিল?’

সিলেট মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল ওহাবের সরকারী মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি সেটি বন্ধ করে দেন।

হামলার পর ওই যুবককে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়েই আটকে রাখা হয়। তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে তিনি বিশ্বাবদ্যালয়ের ছাত্র নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেট পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর পর ওই যুবককে নিয়ে আসতে দিচ্ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। পরে র‌্যাব গিয়ে তাকে নিয়ে এসে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও আশা করছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা জাফর ইকবাল ১৯৯৪ সালে দেশের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। জাফর ইকবাল বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলোতে ‘সাদাসিধে কথা’ নামে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন।

তার লেখা কলামগুলোতে তার রাজনৈতিক সচেতনতা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। তার স্বাধীনতা-বিরোধী ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মত প্রকাশ এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার ধারক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবী ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অবস্থান বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়েছে।

জাফর ইকবালের বাবা ফয়জুর রহমান আহমদকে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা করা হয়। জাফর ইকবালের আরেক ভাই কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কয়েক বছর আগে কোলন ক্যান্সারে মারা যান।

Facebook Comments

আরো খবর

পনিটুলা মহাপ্রভুর আখড়ার মাতা ঠাকুরানী রাধারানী কৃষ... সিলেট প্রতিদিন :: সিলেট শহরের পল্লবী আ/এ পনিটুলাস্থ শ্রীশ্রী গ...
নৌকার পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্যাদের গণসংযোগ... সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ...
দিনভর কামরানের প্রচারণা : নৌকা বিজয়ী হলে সমাজে সম্... সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক :: আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেমন নির্বাচন...
আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে ৭নং ওয়ার্ডে যুবদলের ব্য... প্রতিদিন ডেস্ক:: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত...
সাংবাদিককে দেখে নেবেন কাউন্সিলর প্রার্থী শামীমের ভ... সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সিলেট সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের...

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: প্রায় দেড় বছর আগে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। তারও প্রায় এক বছর আগে একটি জঙ্গি সংগঠনের নামে পাঠানো চিঠিতে যে ১০ জনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয় তাতেও জাফর ইকবালের নাম ছিল।

এর বাইরেও সামাজিক মাধ্যমে উগ্রপন্থীদের বিভিন্ন গ্রুপেও বরেণ্য এই মানুষটিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং হুমকি দেয়া হতো নিয়মিত।

এসব হুমকির ঘটনায় দুই বছর আগে থেকেই সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে। আর পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। আর এতে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হামলার পর পর সন্দেহভাজন যুবককে জাফর ইকবালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরকেও আহত করে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করে। কিন্তু ছাত্ররা হামলাকারীকে ধরে মারধোর করে অচেতন করে ফেলে। ফলে তার কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

শনিবার বিকাল পাঁচটার সময়ে ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হয়ে যান জাফর ইকবা। সেখানেই হামলা হয় তার ওপর।

হামলার পরপরই ওই তরুণকে ধরে ফেলা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তরুণকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রাখা হয়।

২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তায় লেখা ছিল Hi Unbeliever! We will strangulate you soon’।

এর আগে ২০১৫ সালের ২১ মে ডাকযোগে পাঠানো ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠিতে মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ১০ বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকি দেয় আল কায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলাটিম।

আর পুলিশ সদরদপ্তরের সিদ্ধান্তে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে জাফর ইকবালকে সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তখন দিনের বেলায় দুজন এবং রাতে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়।

পুলিশ মোতায়েন থাকা অবস্থায় জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় বাহিনীটির কর্মীদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বাহিনীটির কর্মকর্তারা তা স্বীকার করতে নারাজ।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক সহেলী ফেরদৌস ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জাফর ইকবালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। সব সময়ে তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা থাকত। হামলার সময়েও তিনজন পুলিশ ছিল জাফর ইকবালের সঙ্গে।’

‘তাঁর উপরে হামলার পর ওই যুবককে ধরে ফেলেছিল তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু ওই যুবক তিনজন পুলিশ সদস্যদেরকে আহত করেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মঞ্চে থাকা ছাত্রদের পিটুনিতে সেও গুরুতর আহত হয়। ’

পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ব্যর্থতা কার-এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্টের উপরে তো হামলা হয়েছিল। তাহলে কী তাঁর নিরাপত্তায় কোন ঘাটতি ছিল?’

সিলেট মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল ওহাবের সরকারী মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি সেটি বন্ধ করে দেন।

হামলার পর ওই যুবককে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়েই আটকে রাখা হয়। তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে তিনি বিশ্বাবদ্যালয়ের ছাত্র নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেট পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর পর ওই যুবককে নিয়ে আসতে দিচ্ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। পরে র‌্যাব গিয়ে তাকে নিয়ে এসে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও আশা করছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা জাফর ইকবাল ১৯৯৪ সালে দেশের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। জাফর ইকবাল বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলোতে ‘সাদাসিধে কথা’ নামে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন।

তার লেখা কলামগুলোতে তার রাজনৈতিক সচেতনতা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। তার স্বাধীনতা-বিরোধী ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মত প্রকাশ এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার ধারক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবী ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অবস্থান বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়েছে।

জাফর ইকবালের বাবা ফয়জুর রহমান আহমদকে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা করা হয়। জাফর ইকবালের আরেক ভাই কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কয়েক বছর আগে কোলন ক্যান্সারে মারা যান।

Facebook Comments

আরো খবর

পনিটুলা মহাপ্রভুর আখড়ার মাতা ঠাকুরানী রাধারানী কৃষ... সিলেট প্রতিদিন :: সিলেট শহরের পল্লবী আ/এ পনিটুলাস্থ শ্রীশ্রী গ...
নৌকার পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্যাদের গণসংযোগ... সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ...
দিনভর কামরানের প্রচারণা : নৌকা বিজয়ী হলে সমাজে সম্... সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক :: আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেমন নির্বাচন...
আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে ৭নং ওয়ার্ডে যুবদলের ব্য... প্রতিদিন ডেস্ক:: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত...
সাংবাদিককে দেখে নেবেন কাউন্সিলর প্রার্থী শামীমের ভ... সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সিলেট সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের...