আজঃ ৪ঠা কার্তিক ১৪২৫ - ১৯শে অক্টোবর ২০১৮ - ভোর ৫:৪১

জগন্নাথপুরে ইট বিছানো রাস্তায় ফসল রক্ষা বাঁধ!

Published: মার্চ ০৪, ২০১৮ - ৬:০৩ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক:: গ্রামের ইট বিছানো রাস্তায় এবার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ চলছে। এ বাঁধের নির্মাণ কাজ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভাপতি। কারণ বাঁধের আশপাশে ঘরবাড়ি থাকায় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। ওই বাঁধের জন্য মাটি আনতে হচ্ছে পাশের গ্রামের ছোট হাওর থেকে।

রবিবার (৪ মার্চ) এমন দৃশ্য দেখা গেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের গয়াসপুর গ্রামস্থ টাঙ্গুয়া হাওরের ইট বিছানো রাস্তায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের গয়াসপুর গ্রামস্থ টাঙ্গুয়া হাওরের ইট বিছানো সড়কে প্রথমবারের মতো এবার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক ১৪০০ ফুট লম্বা বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। পিআইসি নং ৩১। ওই বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২ লাখ টাকা। বাঁধের আশেপাশে মাটির তীব্র সংকট থাকায় কাজ শুরু করতে বিপাকে পড়েন পিআইসির সভাপতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গয়াসপুর গ্রামের লোকজনের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা হচ্ছে এ সড়ক। সড়কের কিছু অংশে ইট সলিং রয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে রানীগঞ্জ হয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে চলাচল করে থাকেন গ্রামের লোকজন। এবার এ সড়কের ১৪০০ ফুট লম্বা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের জন্য পাউবো অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাঁধের নিকটবর্তী স্থানে মাটি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অবশেষ প্রায় দুই কিলোমিটার দূরবর্তী স্থান সালদিকা গ্রামের হাওর থেকে মাটি ট্রলি দিয়ে এনে বাঁধের কাজ চলছে। যে সড়ক দিয়ে ট্রলি যাতায়াত করে ওই রাস্তাটি ছোট হওয়ায় গাড়ী যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এই বাঁধের পাশে একই সড়কে আরেক বেড়িবাঁধের আওতায় এনে কাজ চলছে। পিআইসি নং ৩২। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ওই পিআইসির সভাপতি আবদুল মজিদও মুচলেকা দিয়েছেন সাতদিনের মধ্যে কাজ শেষ করবেন।

স্থানীয়রা জানান, পাউবো কর্তৃক এই প্রথমবারের মতো গ্রামের রাস্তাকে বেড়িবাঁধের আওতায় আনা হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেড়িবাঁধ দুটি নির্মিত হয়েছে। কারণ এই সড়ক দিয়ে কোনো সময় হাওরে পানি প্রবেশ করেনি।

টাঙ্গুয়া হাওরের ৩১নং পিআইসির সভাপতি সানু মিয়া বলেন, বাঁধের আশপাশে মাটির কোনো ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে ট্রলি দিয়ে মাটি আনতে হচ্ছে। তিনি এ সময় আরো কিছু দিন সময় বাড়ানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাবেন বলে জানান।

৩২নং পিআইসির সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের ফসলক্ষায় এ বাঁধটি নির্মিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান জগন্নাথপুরের হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজের তদারকির দায়িত্বরত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, গয়াসপুর গ্রামের যে সড়কটি রয়েছে এটি অনেক বছর পূর্বে টাঙ্গুর হাওরের বেড়িবাঁধ ছিল। কয়েক বছর ধরে ওই বাঁধে কাজ হয়নি। এ বছর আবার বেড়িবাঁধের আওতায় এনে নির্মাণ কাজ চলছে।

জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার নদীতে পানি বেড়ে গেলে টাঙ্গুয়া হাওরে প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। তাই ওই দুটি বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন প্রতিবেদক:: গ্রামের ইট বিছানো রাস্তায় এবার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ চলছে। এ বাঁধের নির্মাণ কাজ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভাপতি। কারণ বাঁধের আশপাশে ঘরবাড়ি থাকায় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। ওই বাঁধের জন্য মাটি আনতে হচ্ছে পাশের গ্রামের ছোট হাওর থেকে।

রবিবার (৪ মার্চ) এমন দৃশ্য দেখা গেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের গয়াসপুর গ্রামস্থ টাঙ্গুয়া হাওরের ইট বিছানো রাস্তায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের গয়াসপুর গ্রামস্থ টাঙ্গুয়া হাওরের ইট বিছানো সড়কে প্রথমবারের মতো এবার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক ১৪০০ ফুট লম্বা বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। পিআইসি নং ৩১। ওই বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২ লাখ টাকা। বাঁধের আশেপাশে মাটির তীব্র সংকট থাকায় কাজ শুরু করতে বিপাকে পড়েন পিআইসির সভাপতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গয়াসপুর গ্রামের লোকজনের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা হচ্ছে এ সড়ক। সড়কের কিছু অংশে ইট সলিং রয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে রানীগঞ্জ হয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে চলাচল করে থাকেন গ্রামের লোকজন। এবার এ সড়কের ১৪০০ ফুট লম্বা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের জন্য পাউবো অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাঁধের নিকটবর্তী স্থানে মাটি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অবশেষ প্রায় দুই কিলোমিটার দূরবর্তী স্থান সালদিকা গ্রামের হাওর থেকে মাটি ট্রলি দিয়ে এনে বাঁধের কাজ চলছে। যে সড়ক দিয়ে ট্রলি যাতায়াত করে ওই রাস্তাটি ছোট হওয়ায় গাড়ী যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এই বাঁধের পাশে একই সড়কে আরেক বেড়িবাঁধের আওতায় এনে কাজ চলছে। পিআইসি নং ৩২। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ওই পিআইসির সভাপতি আবদুল মজিদও মুচলেকা দিয়েছেন সাতদিনের মধ্যে কাজ শেষ করবেন।

স্থানীয়রা জানান, পাউবো কর্তৃক এই প্রথমবারের মতো গ্রামের রাস্তাকে বেড়িবাঁধের আওতায় আনা হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেড়িবাঁধ দুটি নির্মিত হয়েছে। কারণ এই সড়ক দিয়ে কোনো সময় হাওরে পানি প্রবেশ করেনি।

টাঙ্গুয়া হাওরের ৩১নং পিআইসির সভাপতি সানু মিয়া বলেন, বাঁধের আশপাশে মাটির কোনো ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে ট্রলি দিয়ে মাটি আনতে হচ্ছে। তিনি এ সময় আরো কিছু দিন সময় বাড়ানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাবেন বলে জানান।

৩২নং পিআইসির সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের ফসলক্ষায় এ বাঁধটি নির্মিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান জগন্নাথপুরের হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজের তদারকির দায়িত্বরত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, গয়াসপুর গ্রামের যে সড়কটি রয়েছে এটি অনেক বছর পূর্বে টাঙ্গুর হাওরের বেড়িবাঁধ ছিল। কয়েক বছর ধরে ওই বাঁধে কাজ হয়নি। এ বছর আবার বেড়িবাঁধের আওতায় এনে নির্মাণ কাজ চলছে।

জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার নদীতে পানি বেড়ে গেলে টাঙ্গুয়া হাওরে প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। তাই ওই দুটি বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর