আজঃ ৩রা পৌষ ১৪২৫ - ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৮ - সকাল ৭:৪১

ছাতক ভূমি অফিসে লাঘামহীন দুর্নীতি : ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

Published: অক্টো ০১, ২০১৮ - ১:৪৭ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন :: ছাতক ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। ঘুষ না দিলে এ অফিসে কোনো কাজ হয় না। এ নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই।

দীর্ঘ দিন থেকে এখানে অবাধে ঘুষ বাণিজ্য চললেও রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতি অফিস সহকারী তপন তরফদারের যোগদানে ঘুষ বাণিজ্য আরও বেড়েছে।

জানা যায়, ছাতক এসি ল্যান্ড অফিসের অধীনে পীরপুর, জাহিদপুর, জগঝাপ ও ছাতক সদরসহ ৪টি ভূমি অফিস রয়েছে। এসব অফিসে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও এ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আসেন ভূমি মালিকরা। কিন্তু রেকর্ডপত্র, ভলিউম ছেঁড়ার অজুহাত দেখিয়ে খাজনা নিতে ও তথ্য দিতে অপারগতার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। এতে ভূমি মালিকরা পড়েন চরম বেকায়দায়। নিরুপায় হয়ে ঘুষ দিয়েই কাজ করিয়ে নিতে হয়।

চার ভূমি অফিসের চেয়ে এসি ল্যান্ড অফিসের চিত্র আরও ভয়াবহ। টাকা ছাড়া সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হন না এ অফিসের দায়িত্ব-রতরা। তাদের কাছে আগে ঘুষ পরে কাজ। এসব অপকর্মে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অফিস সহকারী তরফদার ও কানুনগোর দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ারগন। এসব অপকর্ম করার তাদের আলাদা বাহিনীও রয়েছে।

এসিল্যান্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর এখানে আড়াই থেকে ৩ হাজার নামজারি মোকদ্দমা দায়ের হয়ে থাকে। এসব নামজারি জমা, খারিজ, হালনাগাদ রেকর্ড সংশোধন ইত্যাদি অজুহাতে দলিলের প্রকারভেদে সর্বনিন্ম ১০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়। এ ছাড়া প্রতি নামজারি মোকদ্দমায় এন্ট্রি ফি’র নামে ৫শ’ টাকা করে নেয়া হয়।

এর একটা বড় অংশ যায় শামছুদ্দোহার পকেটে। তার নেতৃত্বে এখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিলেও এর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

অফিস সহকারী তপন তরফদারের দুর্নীতির অন্ত নেই। সরকারি পতিত জমি বন্দোবস্ত আনতে অনেক মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। শতক প্রতি ৪ লক্ষ টাকা দাম দড়ে এসব সরকারি জমি তিনি বন্দোবস্ত দেন। যে টাকা দিতে পারে না তাকে বন্দোবস্ত দেননা।

এমন অভিযোগ করেছেন ৭নং ওয়ার্ডের মন্ডলীভোগ গ্রামের বাসিন্দা লিটু মিয়ার পুত্র মোঃ মাহমুদুল করিম নেওয়াজ।

তিনি বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে ৪ শতক জায়গায় আমাদেরকে দেওয়ার নাম করে পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামায়াত-বিএনপির সাথে জড়িত ২জনকে দিয়ে দেন। এ ব্যাপারে মাহমুদুল করিম নেওয়াজ আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।

ঠিক তেমনি পৌরসভার গণেশপুর গ্রামে সামছুজ্জামান ও ওয়াহিদুন নবী একইরকম অভিযোগ করেছেন। তারাও আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে ছাতক ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তপন তরফদারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন :: ছাতক ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। ঘুষ না দিলে এ অফিসে কোনো কাজ হয় না। এ নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই।

দীর্ঘ দিন থেকে এখানে অবাধে ঘুষ বাণিজ্য চললেও রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতি অফিস সহকারী তপন তরফদারের যোগদানে ঘুষ বাণিজ্য আরও বেড়েছে।

জানা যায়, ছাতক এসি ল্যান্ড অফিসের অধীনে পীরপুর, জাহিদপুর, জগঝাপ ও ছাতক সদরসহ ৪টি ভূমি অফিস রয়েছে। এসব অফিসে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও এ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আসেন ভূমি মালিকরা। কিন্তু রেকর্ডপত্র, ভলিউম ছেঁড়ার অজুহাত দেখিয়ে খাজনা নিতে ও তথ্য দিতে অপারগতার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। এতে ভূমি মালিকরা পড়েন চরম বেকায়দায়। নিরুপায় হয়ে ঘুষ দিয়েই কাজ করিয়ে নিতে হয়।

চার ভূমি অফিসের চেয়ে এসি ল্যান্ড অফিসের চিত্র আরও ভয়াবহ। টাকা ছাড়া সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি হন না এ অফিসের দায়িত্ব-রতরা। তাদের কাছে আগে ঘুষ পরে কাজ। এসব অপকর্মে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অফিস সহকারী তরফদার ও কানুনগোর দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ারগন। এসব অপকর্ম করার তাদের আলাদা বাহিনীও রয়েছে।

এসিল্যান্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর এখানে আড়াই থেকে ৩ হাজার নামজারি মোকদ্দমা দায়ের হয়ে থাকে। এসব নামজারি জমা, খারিজ, হালনাগাদ রেকর্ড সংশোধন ইত্যাদি অজুহাতে দলিলের প্রকারভেদে সর্বনিন্ম ১০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়। এ ছাড়া প্রতি নামজারি মোকদ্দমায় এন্ট্রি ফি’র নামে ৫শ’ টাকা করে নেয়া হয়।

এর একটা বড় অংশ যায় শামছুদ্দোহার পকেটে। তার নেতৃত্বে এখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিলেও এর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

অফিস সহকারী তপন তরফদারের দুর্নীতির অন্ত নেই। সরকারি পতিত জমি বন্দোবস্ত আনতে অনেক মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। শতক প্রতি ৪ লক্ষ টাকা দাম দড়ে এসব সরকারি জমি তিনি বন্দোবস্ত দেন। যে টাকা দিতে পারে না তাকে বন্দোবস্ত দেননা।

এমন অভিযোগ করেছেন ৭নং ওয়ার্ডের মন্ডলীভোগ গ্রামের বাসিন্দা লিটু মিয়ার পুত্র মোঃ মাহমুদুল করিম নেওয়াজ।

তিনি বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে ৪ শতক জায়গায় আমাদেরকে দেওয়ার নাম করে পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামায়াত-বিএনপির সাথে জড়িত ২জনকে দিয়ে দেন। এ ব্যাপারে মাহমুদুল করিম নেওয়াজ আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।

ঠিক তেমনি পৌরসভার গণেশপুর গ্রামে সামছুজ্জামান ও ওয়াহিদুন নবী একইরকম অভিযোগ করেছেন। তারাও আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে ছাতক ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তপন তরফদারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর