আজঃ ৫ই কার্তিক ১৪২৫ - ২০শে অক্টোবর ২০১৮ - সকাল ৭:১০

চলনবিল ইজারা নিয়ে মাছ ধরছেন আ’লীগ নেতারা

Published: অক্টো ০৩, ২০১৮ - ৩:১৪ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: নাটোরের সিংড়ার চলনবিলে বানার বাঁধ, সুঁতিজাল দিয়ে নির্বিচারে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী শিকার করা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মসজিদের নামে বিলের বিভিন্ন এলাকায় ‘ইজারা’ দিয়ে এসব জলজ প্রাণী শিকারের ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এর ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি চলনবিলের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে প্রভাবশালীদের বিল দখলের ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবিরা তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন চলনবিল ঘুরে দেখা যায়, নাটোরের সিংড়ার জোলার বাতা-দক্ষিণ দমদমা এলাকায় জলাশয়ের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ বাঁধ দিয়ে ঘেরা। এ সময় কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসীর সঙ্গে। তারা বলেন, দক্ষিণ দমদমার পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ থেকে বিলের এই অংশ ৩২ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় আ’লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী ও বাহার উদ্দিন।

জামে মসজিদ থেকে বিল ইজারা নিয়ে নিংগঈন এলাকায় বানার বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন আ’লীগ নেতা আবদুল আউয়াল। জোড়মল্লিকা ব্রিজের পূর্ব পাশে আত্রাই নদীর ভাঙনে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন ওই ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

এলাকাবাসী জানান, জোড়মল্লিকা কওমি মাদ্রাসা ও কবরস্থানের নামে এই বাঁধ পরিচালনা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাবু। পাটকোল ও কতুয়াবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক কিলোমিটারের বেশি অংশ বাঁধ দিয়ে ঘিরে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাজল ও বিটল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লিরা জানান, পাটকোল বিলের এই অংশ পাটকোল ও বালুভরা দুই জামে মসজিদ থেকে ২ লাখ কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে ইজারা দেয়া হয়েছে। ডাহিয়া মসজিদ কমিটি থেকে নামমাত্র টাকায় বিল ইজারা নিয়ে বানার বাঁধ দিয়ে বিলে মাছ শিকার করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এছাড়াও শেরকোল ইউনিয়নের তেলীগ্রাম বিলে সুঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকার করছে আ’লীগ নেতা আবদুল কাদের ও সাবেক মেম্বার আবদুল মতিন এবং সোনাইডাঙ্গা-গোবিন্দনগর বিলে সুঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকার করছে স্থানীয় আ’লীগ নেতা মিজানুর রহমান।

বালুভরা জামে মসজিদের সভাপতি গোলাম রাব্বানী বাবু বলেন, ১ লাখ বিশ হাজার টাকা দিয়ে আমরা আমাদের মসজিদের নিজস্ব কুয়া ইজারা দিয়েছি। কোনো বিল ইজারা দিই নাই। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চলনবিলে বানার বাঁধ ও সুঁতিজাল দেয়ায় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী অবাধে চলাচল করতে পারছে না।

এতে মাছ, কাঁকড়া, শামুকসহ ছোট পোকামাকড় বিলুপ্ত হচ্ছে। আমরা এলাকাবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।’ সিংড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চলনবিল নিয়ে এখন আর গর্ব করার কিছু নেই।

কারণ দখলদারদের দৌরাত্ম্য এই ঐতিহ্যবাহী বিল তার যৌবন হারাতে বসেছে। আর কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বিল ইজারা দেয়া আইনে কোথায়ও এর বিধান নেই।

বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, গ্রাম্য পুলিশের মাধ্যমে বানার বাঁধ ও সুঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকারের তালিকা করা হচ্ছে। অবিলম্বে বিলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: নাটোরের সিংড়ার চলনবিলে বানার বাঁধ, সুঁতিজাল দিয়ে নির্বিচারে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী শিকার করা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মসজিদের নামে বিলের বিভিন্ন এলাকায় ‘ইজারা’ দিয়ে এসব জলজ প্রাণী শিকারের ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এর ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি চলনবিলের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে প্রভাবশালীদের বিল দখলের ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবিরা তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন চলনবিল ঘুরে দেখা যায়, নাটোরের সিংড়ার জোলার বাতা-দক্ষিণ দমদমা এলাকায় জলাশয়ের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ বাঁধ দিয়ে ঘেরা। এ সময় কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসীর সঙ্গে। তারা বলেন, দক্ষিণ দমদমার পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ থেকে বিলের এই অংশ ৩২ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় আ’লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী ও বাহার উদ্দিন।

জামে মসজিদ থেকে বিল ইজারা নিয়ে নিংগঈন এলাকায় বানার বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন আ’লীগ নেতা আবদুল আউয়াল। জোড়মল্লিকা ব্রিজের পূর্ব পাশে আত্রাই নদীর ভাঙনে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন ওই ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

এলাকাবাসী জানান, জোড়মল্লিকা কওমি মাদ্রাসা ও কবরস্থানের নামে এই বাঁধ পরিচালনা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাবু। পাটকোল ও কতুয়াবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক কিলোমিটারের বেশি অংশ বাঁধ দিয়ে ঘিরে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাজল ও বিটল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লিরা জানান, পাটকোল বিলের এই অংশ পাটকোল ও বালুভরা দুই জামে মসজিদ থেকে ২ লাখ কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে ইজারা দেয়া হয়েছে। ডাহিয়া মসজিদ কমিটি থেকে নামমাত্র টাকায় বিল ইজারা নিয়ে বানার বাঁধ দিয়ে বিলে মাছ শিকার করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এছাড়াও শেরকোল ইউনিয়নের তেলীগ্রাম বিলে সুঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকার করছে আ’লীগ নেতা আবদুল কাদের ও সাবেক মেম্বার আবদুল মতিন এবং সোনাইডাঙ্গা-গোবিন্দনগর বিলে সুঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকার করছে স্থানীয় আ’লীগ নেতা মিজানুর রহমান।

বালুভরা জামে মসজিদের সভাপতি গোলাম রাব্বানী বাবু বলেন, ১ লাখ বিশ হাজার টাকা দিয়ে আমরা আমাদের মসজিদের নিজস্ব কুয়া ইজারা দিয়েছি। কোনো বিল ইজারা দিই নাই। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘চলনবিলে বানার বাঁধ ও সুঁতিজাল দেয়ায় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী অবাধে চলাচল করতে পারছে না।

এতে মাছ, কাঁকড়া, শামুকসহ ছোট পোকামাকড় বিলুপ্ত হচ্ছে। আমরা এলাকাবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।’ সিংড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চলনবিল নিয়ে এখন আর গর্ব করার কিছু নেই।

কারণ দখলদারদের দৌরাত্ম্য এই ঐতিহ্যবাহী বিল তার যৌবন হারাতে বসেছে। আর কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বিল ইজারা দেয়া আইনে কোথায়ও এর বিধান নেই।

বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, গ্রাম্য পুলিশের মাধ্যমে বানার বাঁধ ও সুঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকারের তালিকা করা হচ্ছে। অবিলম্বে বিলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর