আজঃ ২রা কার্তিক ১৪২৫ - ১৭ই অক্টোবর ২০১৮ - সন্ধ্যা ৭:০১

চমকের অপেক্ষায় আ’লীগ খন্দকারে আস্থা বিএনপিতে

Published: অক্টো ০১, ২০১৮ - ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সিলেট-১ আসনে নতুন করে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচন না করার ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন।

দীর্ঘ দিন ধরেই সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং সদর উপজেলা নিয়ে সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আসছেন। আগামী নির্বাচনে সেই প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়েই চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে।

আওয়ামী লীগে অর্থমন্ত্রীর ভাই জাতিসংঘে সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন এখন মাঠে। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেট-১ এবং সিলেট-৩ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি সিলেট-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মরিয়া। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে দলের সভানেত্রী মর্যাদার এ আসনে প্রার্থী দেবেন বলে নেতারা বলছেন।

বিএনপিতে দু’জন প্রার্থী মাঠে থাকলেও সাবেক এমপি খন্দকার আব্দুল মালিকের পুত্র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরে ভরসা রাখছেন মাঠের নেতারা। তবে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের আরেক প্রার্থী ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক এমপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুরও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সরকারবিরোধী নতুন জোটের প্রার্থী হচ্ছেন বলে বলাবলি হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা না থাকলেও সিলেটকে দ্বিতীয় বাড়ি বলে মনে করেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দলের সিলেট জেলার সদস্য সচিব উসমান আলী জানান, দল এককভাবে ভোটে গেলে সিলেট-১ আসনে দলের চেয়ারম্যান নিজেই নির্বাচন করবেন।

নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের ভোটে এ আসনটি ছাড়া সিলেট বিভাগের বাকি ১৮ আসনেই পরাজিত হয় বিএনপি। তবে ওই নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। ৭ম, ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই দলের ভোটযুদ্ধে দু’বার আওয়ামী লীগ ও একবার বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ৭ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ২০০১ সালে বিএনপির এম সাইফুর রহমান ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত জয়ী হন। মুহিত এক লাখ ৭৮ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং বিএনপির সাইফুর রহমান এক লাখ ৪০ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। ২০১৪ সালের ভোটেও মুহিত জয়ী হন। রাজনীতিকসহ অনেকের বিশ্বাস আগামীতে কারা সরকারে যাবে সেটা নির্ধারণ করে দেবে সিলেট-১ আসনের ফলাফল।

জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন  বলেন, আমরা অনেকেই মাঠে নেমেছি। এটা গণতন্ত্রের ভালো লক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে কাজ করতে বলেছেন আমি সেটাই করছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা যা বলেন তা-ই করেন। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যত বিভক্তি দলের অভ্যন্তরেই, সাধারণ ভোটররা ঠিক আছে।

ছহুল হোসাইন  বলেন, আমার পূর্বপুরুষরাও এই নগরীর বাসিন্দা। সিলেটে আওয়ামী লীগ ও মানুষের সঙ্গে আমার যোগযোগ ছিল ও আছে। নির্বাচন কমিশনার থাকাবস্থায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাকে নির্বাচন করার জন্য তারা উৎসাহ দিচ্ছে। মনোনয়ন দেবেন দলীয় প্রধান। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলে তা পালনে প্রস্তুত। শনিবার ছহুল হোসাইনের বাসায় পারিবারিক অনুষ্ঠানে যান সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরান। সেখানেও তিনি কামরানের কাছেও তার ইচ্ছার কথা জানান। এ প্রসঙ্গে কামরান  বলেন, আমি তাকে বলেছি শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন আমিসহ দলের নেতাকর্মীরা সেই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ব।

নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে ড. ফরাস উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মনসুর  বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গ আসবে। সে পরিবেশ দেখছি না। বর্তমান ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ। তবে আগে ভোটের তারিখ ঘোষণা হোক। তখন মাঠের চিত্র দ্রুত পাল্টে যাবে। ঢাকার একটি আসন, সিলেট-১ ও মৌলভীবাজারের একটি আসনে নির্বাচনের চিন্তা রয়েছে। তবে নির্বাচন যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘সার্কাস মার্কা’ হয় সেখানে প্রার্থী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যেও আমি আওয়ামী লীগের কর্মী, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে যাই এবং বক্তব্য দিই। তবে আমি সরকারি লীগের নই। আমার অনেক কর্মী এখন মন্ত্রী-এমপি। আমার কাছে অনেক খবরই আসে।

এ আসনে সাবেক তিন আমলাকে মাঠে রেখে প্রার্থী হতে চান মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি বলেন, সিলেটের মানুষ নৌকা ভাড়া দিতে চান না। তার সম্পর্কে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মন্তব্য করেছেন, ‘ফরাসউদ্দিন, মিসবাহ উদ্দিন ইজ ইউজলেস নেইম।’ এ বক্তব্যের জবাবে মিসবাহ বলেন, এটা অভিভাবকসুলভ বক্তব্য নয়। এর আগে মিসবাহ অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘তিনি উড়ে এসে মন্ত্রী হয়েছেন।’ এদিকে, শুক্রবার সিলেটে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হলেও বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাননি ড. মোমেন। এ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে মৃদু হট্টগোলও হয়। এদিকে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে এক অনুষ্ঠানে রোববার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সিলেট-১ আসনে ড. মোমেন আর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রার্থী হিসেবে আছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও গত সিটি নির্বাচনে কামরানের হারের জন্য সিরাজসহ কয়েকজন নেতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

কথা হয় কামরানের সঙ্গেতিনি  বলেন, আমি দলের ক্ষুদ্র কর্মী, দলের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি যেখানে আমাকে কাজে লাগাতে চাইবেন সেখানেই আমি কাজ করতে প্রস্তুত। নেত্রীর নির্দেশ পেলে এ আসনে প্রার্থী হতে প্রস্তুত।

নানামুখী চাপে থাকা বিএনপি দৌড়ের ওপর থাকলেও দলের নেতারা ভেতরে ভেতরে ভোটের মাঠে তৎপর রয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের আন্দোলন এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়া জরুরি। ওই নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটতে হবে। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে না ভেবে সার্বিকভাবে ভাবতে হবে। তবে নির্বাচন এলে অনেকেরই নাম উঠে আসে। তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন চাইব এর বেশি এখনই কিছু বলতে চাই না। দল আমাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে, সেই অবস্থানে থেকে মনোনয়নের ব্যাপারে এর বেশি বক্তব্য দেয়া ঠিক হবে না। ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে এবং এ আসনে বিএনপিরই জয় হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, পরে নির্বাচন- এ দাবিতে আমরা অটল। নির্বাচন এলেই প্রার্থী হতে হবে- এমন লোক আমি নই। মাঠে অনেকেই আছেন, তবে যোগ্যতা আছে বলেই প্রার্থী হতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি, অতীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি, একজন চিকিৎসক হিসেবে নগরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে অবশ্যই নির্বাচন করব।

জাতীয় পার্টির সিলেট জেলা সদস্য সচিব উসমান আলী জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি, দলের চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় বাড়ি সিলেটে। দল যদি এককভাবে নির্বাচন করে তবে চেয়ারম্যান নিজেই এ আসনে প্রার্থী হবেন।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সিলেট-১ আসনে নতুন করে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচন না করার ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন।

দীর্ঘ দিন ধরেই সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং সদর উপজেলা নিয়ে সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আসছেন। আগামী নির্বাচনে সেই প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়েই চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে।

আওয়ামী লীগে অর্থমন্ত্রীর ভাই জাতিসংঘে সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন এখন মাঠে। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেট-১ এবং সিলেট-৩ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি সিলেট-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মরিয়া। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে দলের সভানেত্রী মর্যাদার এ আসনে প্রার্থী দেবেন বলে নেতারা বলছেন।

বিএনপিতে দু’জন প্রার্থী মাঠে থাকলেও সাবেক এমপি খন্দকার আব্দুল মালিকের পুত্র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরে ভরসা রাখছেন মাঠের নেতারা। তবে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের আরেক প্রার্থী ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক এমপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুরও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সরকারবিরোধী নতুন জোটের প্রার্থী হচ্ছেন বলে বলাবলি হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা না থাকলেও সিলেটকে দ্বিতীয় বাড়ি বলে মনে করেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দলের সিলেট জেলার সদস্য সচিব উসমান আলী জানান, দল এককভাবে ভোটে গেলে সিলেট-১ আসনে দলের চেয়ারম্যান নিজেই নির্বাচন করবেন।

নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের ভোটে এ আসনটি ছাড়া সিলেট বিভাগের বাকি ১৮ আসনেই পরাজিত হয় বিএনপি। তবে ওই নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। ৭ম, ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই দলের ভোটযুদ্ধে দু’বার আওয়ামী লীগ ও একবার বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ৭ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ২০০১ সালে বিএনপির এম সাইফুর রহমান ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত জয়ী হন। মুহিত এক লাখ ৭৮ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং বিএনপির সাইফুর রহমান এক লাখ ৪০ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। ২০১৪ সালের ভোটেও মুহিত জয়ী হন। রাজনীতিকসহ অনেকের বিশ্বাস আগামীতে কারা সরকারে যাবে সেটা নির্ধারণ করে দেবে সিলেট-১ আসনের ফলাফল।

জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন  বলেন, আমরা অনেকেই মাঠে নেমেছি। এটা গণতন্ত্রের ভালো লক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে কাজ করতে বলেছেন আমি সেটাই করছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা যা বলেন তা-ই করেন। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যত বিভক্তি দলের অভ্যন্তরেই, সাধারণ ভোটররা ঠিক আছে।

ছহুল হোসাইন  বলেন, আমার পূর্বপুরুষরাও এই নগরীর বাসিন্দা। সিলেটে আওয়ামী লীগ ও মানুষের সঙ্গে আমার যোগযোগ ছিল ও আছে। নির্বাচন কমিশনার থাকাবস্থায় প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাকে নির্বাচন করার জন্য তারা উৎসাহ দিচ্ছে। মনোনয়ন দেবেন দলীয় প্রধান। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলে তা পালনে প্রস্তুত। শনিবার ছহুল হোসাইনের বাসায় পারিবারিক অনুষ্ঠানে যান সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরান। সেখানেও তিনি কামরানের কাছেও তার ইচ্ছার কথা জানান। এ প্রসঙ্গে কামরান  বলেন, আমি তাকে বলেছি শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন আমিসহ দলের নেতাকর্মীরা সেই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ব।

নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে ড. ফরাস উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মনসুর  বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গ আসবে। সে পরিবেশ দেখছি না। বর্তমান ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ। তবে আগে ভোটের তারিখ ঘোষণা হোক। তখন মাঠের চিত্র দ্রুত পাল্টে যাবে। ঢাকার একটি আসন, সিলেট-১ ও মৌলভীবাজারের একটি আসনে নির্বাচনের চিন্তা রয়েছে। তবে নির্বাচন যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘সার্কাস মার্কা’ হয় সেখানে প্রার্থী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যেও আমি আওয়ামী লীগের কর্মী, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে যাই এবং বক্তব্য দিই। তবে আমি সরকারি লীগের নই। আমার অনেক কর্মী এখন মন্ত্রী-এমপি। আমার কাছে অনেক খবরই আসে।

এ আসনে সাবেক তিন আমলাকে মাঠে রেখে প্রার্থী হতে চান মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি বলেন, সিলেটের মানুষ নৌকা ভাড়া দিতে চান না। তার সম্পর্কে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মন্তব্য করেছেন, ‘ফরাসউদ্দিন, মিসবাহ উদ্দিন ইজ ইউজলেস নেইম।’ এ বক্তব্যের জবাবে মিসবাহ বলেন, এটা অভিভাবকসুলভ বক্তব্য নয়। এর আগে মিসবাহ অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘তিনি উড়ে এসে মন্ত্রী হয়েছেন।’ এদিকে, শুক্রবার সিলেটে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হলেও বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাননি ড. মোমেন। এ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে মৃদু হট্টগোলও হয়। এদিকে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে এক অনুষ্ঠানে রোববার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সিলেট-১ আসনে ড. মোমেন আর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রার্থী হিসেবে আছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও গত সিটি নির্বাচনে কামরানের হারের জন্য সিরাজসহ কয়েকজন নেতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

কথা হয় কামরানের সঙ্গেতিনি  বলেন, আমি দলের ক্ষুদ্র কর্মী, দলের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি যেখানে আমাকে কাজে লাগাতে চাইবেন সেখানেই আমি কাজ করতে প্রস্তুত। নেত্রীর নির্দেশ পেলে এ আসনে প্রার্থী হতে প্রস্তুত।

নানামুখী চাপে থাকা বিএনপি দৌড়ের ওপর থাকলেও দলের নেতারা ভেতরে ভেতরে ভোটের মাঠে তৎপর রয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের আন্দোলন এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়া জরুরি। ওই নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটতে হবে। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে না ভেবে সার্বিকভাবে ভাবতে হবে। তবে নির্বাচন এলে অনেকেরই নাম উঠে আসে। তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন চাইব এর বেশি এখনই কিছু বলতে চাই না। দল আমাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে, সেই অবস্থানে থেকে মনোনয়নের ব্যাপারে এর বেশি বক্তব্য দেয়া ঠিক হবে না। ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে এবং এ আসনে বিএনপিরই জয় হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, পরে নির্বাচন- এ দাবিতে আমরা অটল। নির্বাচন এলেই প্রার্থী হতে হবে- এমন লোক আমি নই। মাঠে অনেকেই আছেন, তবে যোগ্যতা আছে বলেই প্রার্থী হতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি, অতীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি, একজন চিকিৎসক হিসেবে নগরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে অবশ্যই নির্বাচন করব।

জাতীয় পার্টির সিলেট জেলা সদস্য সচিব উসমান আলী জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি, দলের চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় বাড়ি সিলেটে। দল যদি এককভাবে নির্বাচন করে তবে চেয়ারম্যান নিজেই এ আসনে প্রার্থী হবেন।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর