আজঃ ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ - ১৩ই নভেম্বর ২০১৮ - রাত ১১:০৮

ঘাতক শফিকের ফাঁসির দাবীতে টাঙ্গাইল থেকে বিশ্বনাথে- রুমীর পরিবার

Published: অক্টো ১৮, ২০১৮ - ৮:২৯ অপরাহ্ণ

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি  :: সিলেটের বিশ্বনাথে স্কুলছাত্রী রুমি হত্যাকারী ঘাতক শফিক মিয়ার ফাঁসির দাবীতে রুমীর পরিবার টাঙ্গাইল থেকে বিশ্বনাথে এসে মানববন্ধন করেছে। ‘রুমী হত্যার বিচার চাই-ঘাতক শফিকের ফাঁসি চাই’ এমন ব্যানার নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় উপজেলা সদরের বাসিয়া ব্রিজে এ মানববন্ধন পালন করে তারা। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে মা মমতাজ বেগম এখন পাগলপ্রায়। অন্তত তার একমাত্র মেয়ের কবরটি দেখতে প্রায় ৪শ কিলোমিটার ফাড়ি দিয়ে স্ব-পরিবারে চলে যান সিলেটের মানিক পীর টিলায়।

সেখান থেকে হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে তারা বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বনাথ থানার ওসির সাথে দেখা করেন। পরে যেখানে রুমি’র লাশ পাওয়া যায় সেই স্থানটি দেখতে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে যান। ওই স্থানে গিয়ে রুমি’র মা মমতাজ বেগম (৪২) ও দাদি রাবেয়া বেগম (৭০) বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্নায় ভারী হয়ে উঠে রামপাশার পাঠাকইন-রামচন্দ্রপুর এলাকা। এসময় তাদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আসলে স্থানীয় অনেকের চোখের জ্বল ধরে রাখতে পারেননি। ওইদিন বিকেল ৫টায় তারা ঘাতক সফিক মিয়ার তালাবদ্ধ বাড়িটি দেখে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

রুমি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার নগরভাত গ্রামের আতাউর রহমানের একমাত্র মেয়ে ও স্থানীয় মৈশামূড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আর রুমীর হত্যাকারী ঘাতক শফিক বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহ’র পুত্র। সে থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে সে কারান্তরীণ রয়েছে।

রুমির মা মমতাজ বেগম মানববন্ধনে বলেন, তার মেয়েকে যে পাষন্ড খুন করেছে তার যেন ফাঁসি হয়। তাকে যেন ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মারা হয়’।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, রুমীর মা মমতাজ বেগম, দাদী রাবেয়া বেগম, দুই ভাই ইয়ার হোসেন ও শফিকুল ইসলাম ফুফু আলেয়া বেগম, ময়না বেগম, মুন্নি বেগম, ফুফা আব্দুল মজিদ, তারা মিয়া, আব্দুস সালামসহ আরো দুইজন নিকটাত্মীয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিদেশী বরের সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার নগরভাত গ্রামের আতাউর রহমানের একমাত্র মেয়ে ও স্থানীয় মৈশামূড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুমি আক্তারকে (১৬) বিশ্বনাথে নিয়ে আসে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহ’র পুত্র শফিক মিয়া (৩২)।

নিজ বসত ঘরে একাধিকবার ধর্ষণ করে রুমিকে নির্মমভাবে খুন করে তার লাশ রামপাশা ইউনিয়নের পাঠাকইন-রামচন্দ্রপুর সড়কের পাশে তবারক আলীর বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়ে যায় সে। ১০সেপ্টেম্বর রাতে ওই লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় রামচন্দ্রপুর গ্রামের ওহাব উল্লাহ’র দুই পুত্রবধূ (শফিকের ভাবী) দিপা বেগম ও লাভলী বেগমকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দু’দিন পরে মির্জাপুরের গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া থেকে শফিককে ও সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপীকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধীতে রুমিকে হত্যার কথা স্বীকার করে পূর্বে একটি ধর্ষণ ও একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামী শফিক।

Facebook Comments

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি  :: সিলেটের বিশ্বনাথে স্কুলছাত্রী রুমি হত্যাকারী ঘাতক শফিক মিয়ার ফাঁসির দাবীতে রুমীর পরিবার টাঙ্গাইল থেকে বিশ্বনাথে এসে মানববন্ধন করেছে। ‘রুমী হত্যার বিচার চাই-ঘাতক শফিকের ফাঁসি চাই’ এমন ব্যানার নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় উপজেলা সদরের বাসিয়া ব্রিজে এ মানববন্ধন পালন করে তারা। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে মা মমতাজ বেগম এখন পাগলপ্রায়। অন্তত তার একমাত্র মেয়ের কবরটি দেখতে প্রায় ৪শ কিলোমিটার ফাড়ি দিয়ে স্ব-পরিবারে চলে যান সিলেটের মানিক পীর টিলায়।

সেখান থেকে হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে তারা বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বনাথ থানার ওসির সাথে দেখা করেন। পরে যেখানে রুমি’র লাশ পাওয়া যায় সেই স্থানটি দেখতে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে যান। ওই স্থানে গিয়ে রুমি’র মা মমতাজ বেগম (৪২) ও দাদি রাবেয়া বেগম (৭০) বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্নায় ভারী হয়ে উঠে রামপাশার পাঠাকইন-রামচন্দ্রপুর এলাকা। এসময় তাদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আসলে স্থানীয় অনেকের চোখের জ্বল ধরে রাখতে পারেননি। ওইদিন বিকেল ৫টায় তারা ঘাতক সফিক মিয়ার তালাবদ্ধ বাড়িটি দেখে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

রুমি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার নগরভাত গ্রামের আতাউর রহমানের একমাত্র মেয়ে ও স্থানীয় মৈশামূড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আর রুমীর হত্যাকারী ঘাতক শফিক বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহ’র পুত্র। সে থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে সে কারান্তরীণ রয়েছে।

রুমির মা মমতাজ বেগম মানববন্ধনে বলেন, তার মেয়েকে যে পাষন্ড খুন করেছে তার যেন ফাঁসি হয়। তাকে যেন ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মারা হয়’।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, রুমীর মা মমতাজ বেগম, দাদী রাবেয়া বেগম, দুই ভাই ইয়ার হোসেন ও শফিকুল ইসলাম ফুফু আলেয়া বেগম, ময়না বেগম, মুন্নি বেগম, ফুফা আব্দুল মজিদ, তারা মিয়া, আব্দুস সালামসহ আরো দুইজন নিকটাত্মীয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিদেশী বরের সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার নগরভাত গ্রামের আতাউর রহমানের একমাত্র মেয়ে ও স্থানীয় মৈশামূড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুমি আক্তারকে (১৬) বিশ্বনাথে নিয়ে আসে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহ’র পুত্র শফিক মিয়া (৩২)।

নিজ বসত ঘরে একাধিকবার ধর্ষণ করে রুমিকে নির্মমভাবে খুন করে তার লাশ রামপাশা ইউনিয়নের পাঠাকইন-রামচন্দ্রপুর সড়কের পাশে তবারক আলীর বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়ে যায় সে। ১০সেপ্টেম্বর রাতে ওই লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় রামচন্দ্রপুর গ্রামের ওহাব উল্লাহ’র দুই পুত্রবধূ (শফিকের ভাবী) দিপা বেগম ও লাভলী বেগমকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দু’দিন পরে মির্জাপুরের গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া থেকে শফিককে ও সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপীকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধীতে রুমিকে হত্যার কথা স্বীকার করে পূর্বে একটি ধর্ষণ ও একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামী শফিক।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর