গোয়াল ঘরে থাকা সেই মায়ের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী…

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার শেয়ালে কামড়ানো বৃদ্ধা মা মরিয়ম নেছার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চিকিৎসাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার রাষ্ট্রীয়ভাবে বহনের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান গতকাল শনিবার হাসপাতালে বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

‘হতভাগা সেই মায়ের আশ্রয় গোয়ালঘর’ এই শিরোনামে ঢাকাটাইমসে সংবাদটি প্রকাশের পর মরিয়ম নেছার পাশে দাঁড়ান সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সেখানকার সাংসদ মোসলেম উদ্দিন এবং পার্শ্ববর্তী মুক্তাগাছা আসনের সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি। তারা এই মায়ের চিকিৎসাসহ যাবতীয় খরচের ঘোষণা দেন।

এরপর আবারও ঢাকাটাইমসে ‘গোয়ালঘরে ফেলে রাখা মায়ের পাশে রওশনসহ তিন এমপি’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। পরে তিনি জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহে ফুলবাড়ীয়ার উপজেলা পুরিজানা ইউনিয়নের পাটলি গ্রামের মারফত আলী বাড়ির কাছে আহত মরিয়মের ঠিকানা। বয়সের ভারে নুব্জ্য হয়ে পড়লেও বয়স্ক ভাতা, রিলিফ, বিধবা ভাতা, সমাজ সেবা অফিস কর্তৃক কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাননি এই বৃদ্ধা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮নং কেবিনে মেডিসিন ইউনিট-৩ ডাক্তার আকাশের তত্ত্বাবধানে নার্স সেফালী রায় বৃদ্ধা মাকে সেবা ও পরিচর্যা করছেন। এখানে এখন প্রতিদিন তাকে দেখার জন্য হাসপাতালে মানুষের ভিড় জমে।

নার্স জ্যোৎস্না  জানান,  এধরনের রোগীর সেবা দিতে পেরে তারা আনন্দ পাচ্ছেন।

জানা গেছে, বৃদ্ধা মা মরিয়মের রয়েছে চার ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলেরা জমি মাপা, কৃষি ও শ্রমিক পেশায় নিয়োজিত। এরই মধ্যে মায়ের প্রতি অবহেলার অভিযোগে তার বড় ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃদ্ধা মাকে দেখাশোনা না করার এবং গোয়াল ঘরে রাখার কারণে শিয়াল কামড়ে মাংস খেয়ে নেয়। তারপরও সন্তানদের কেউ খোঁজ-খবর নেয়নি এই মায়ের।

এই অসহায় বৃদ্ধার জন্য কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন প্রশ্নে বিব্রত বোধ করেন ময়মনসিংহ সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাকে বাঁশ দেয়ার জন্য একী বলছেন?’

Facebook Comments

Leave a Reply