আজঃ ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - রাত ৩:৫৮

গোলাপগঞ্জে মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে একটি মহল

Published: মার্চ ০১, ২০১৮ - ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম ভাঙ্গিয়ে গোলাপগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালী মহল। পাশাপাশি ওই প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দিচ্ছে তারা।

বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার কালিকৃষ্ণপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে শরীফ উল্লাহ বলেন, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এসইএসডিপি প্রজেক্ট কর্তৃক বিদ্যালয় পরিচালিত হয়ে আসছে এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারি কর্মরত আছেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও এমপিওভুক্তির ফাইলে কর্র্তৃপক্ষ স্বাক্ষর প্রদান করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের আট মাসের বেতন-ভাতা আটকে দেয়া হয়। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক শরীফ উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী সৈয়দ মিসবাহ এবং তার অনুসারী এম কবির উদ্দিন গোলাপগঞ্জ মডেল থানা ও উপজেলার প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে এমপিওভুক্তির ফাইল এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। কালিকৃষ্ণপুর গ্রামের মরহুম মতিউর রহমানের পুত্র এম কবির উদ্দিন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য থাকার সুবাদে সব সময় প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন। তিনি বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি ও নাজেহাল করে আসছেন। প্রায় সময় কবির উদ্দিন চাঁদা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর কবির উদ্দিন সহযোগীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে সাদা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেন। ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করার পর কবির উদ্দিন বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চার মাসের বেতন ছাড় করানোর জন্য আবারো কবির ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় তার এমপিওভুক্তি ফাইল ও চার মাসের বেতন সৈয়দ মিসবাহর সহযোগিতায় বন্ধ করে রাখেন কবির। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট কর্তৃপক্ষ এডহক কমিটি করার নির্দেশ দিলেও অদ্যবধি কমিটি করতে দিচ্ছে না কবির গংরা। এমন পরিস্থিতিতে গত ৬ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কবির উদ্দিন জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, জনতা ব্যাংক ভাদেশ্বর শাখার চেক বই ৫টি রেজ্যুলেশনের খাতা, নোটিশ খাতা ও শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন বহি নিয়ে যায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে। না গেলে খুন করে লাশ গুম করারও হুমকি দেন কবির উদ্দিন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দ মিসবাহ ও কবির উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন। যে কারণে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। থানা থেকে মামলা তুলে নেয়ারও হুমকি দিচ্ছে মিসবাহ-কবির গং। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপনের পাশাপাশি তাদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় সময় পার করছেন তিনি। মানবিক দিক বিবেচনা করে শীঘ্রই তার বেতন-ভাতা প্রদান এবং নির্বিঘেœ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শরীফ উল্লাহ।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক:: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম ভাঙ্গিয়ে গোলাপগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালী মহল। পাশাপাশি ওই প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দিচ্ছে তারা।

বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার কালিকৃষ্ণপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে শরীফ উল্লাহ বলেন, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এসইএসডিপি প্রজেক্ট কর্তৃক বিদ্যালয় পরিচালিত হয়ে আসছে এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারি কর্মরত আছেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও এমপিওভুক্তির ফাইলে কর্র্তৃপক্ষ স্বাক্ষর প্রদান করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের আট মাসের বেতন-ভাতা আটকে দেয়া হয়। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক শরীফ উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী সৈয়দ মিসবাহ এবং তার অনুসারী এম কবির উদ্দিন গোলাপগঞ্জ মডেল থানা ও উপজেলার প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে এমপিওভুক্তির ফাইল এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। কালিকৃষ্ণপুর গ্রামের মরহুম মতিউর রহমানের পুত্র এম কবির উদ্দিন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য থাকার সুবাদে সব সময় প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন। তিনি বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি ও নাজেহাল করে আসছেন। প্রায় সময় কবির উদ্দিন চাঁদা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর কবির উদ্দিন সহযোগীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে সাদা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেন। ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করার পর কবির উদ্দিন বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চার মাসের বেতন ছাড় করানোর জন্য আবারো কবির ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় তার এমপিওভুক্তি ফাইল ও চার মাসের বেতন সৈয়দ মিসবাহর সহযোগিতায় বন্ধ করে রাখেন কবির। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট কর্তৃপক্ষ এডহক কমিটি করার নির্দেশ দিলেও অদ্যবধি কমিটি করতে দিচ্ছে না কবির গংরা। এমন পরিস্থিতিতে গত ৬ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কবির উদ্দিন জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, জনতা ব্যাংক ভাদেশ্বর শাখার চেক বই ৫টি রেজ্যুলেশনের খাতা, নোটিশ খাতা ও শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন বহি নিয়ে যায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে। না গেলে খুন করে লাশ গুম করারও হুমকি দেন কবির উদ্দিন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দ মিসবাহ ও কবির উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন। যে কারণে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। থানা থেকে মামলা তুলে নেয়ারও হুমকি দিচ্ছে মিসবাহ-কবির গং। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপনের পাশাপাশি তাদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় সময় পার করছেন তিনি। মানবিক দিক বিবেচনা করে শীঘ্রই তার বেতন-ভাতা প্রদান এবং নির্বিঘেœ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শরীফ উল্লাহ।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর