খেলার মাঠে মেলার আয়োজন: শাহী ঈদগাহ এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

sylhetprotidin24

সিলেট :: আইন অনুযায়ী খেলার মাঠে খেলা ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহার কিংবা ভাড়া দেওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইন লঙ্ঘন করেই সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠ (বর্তমান শেখ রাসেল স্টেডিয়াম) বছরের পর বছর মাঠ থাকে মেলা কিংবা পশুর হাটের দখলে। এতে করে মাঠের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিশু, কিশোর ও তরুণরা বি ত হচ্ছে খেলাধুলার সুযোগ থেকে।

খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, খেলার মাঠ অন্য কোনোভাবে ব্যবহার বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। এই আইন লঙ্ঘনে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় সাজার বিধান আছে। তবে, এই আইনের কোন রূপ তোয়াক্কা না করে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিতে ‘খেলার মাঠে মেলা’ করার ফের প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি মহল।

বুধবার দুপুরে সিলেট ৪র্থ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৭ এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। যদিও আয়োজকদের দাবি, তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও খেলার মাঠ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই মেলার আয়োজন শুরু করেছেন। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা মাঠ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

এরপর থেকে স্থানীয়রা ফের আন্দোলনে নেমেছেন। মেলা আয়োজনের প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সভাও করেছেন বৃহত্তর শাহী ঈদগাহ এলাকাবাসী। এলাকার মুরব্বি মনজু জামানের বাসভবনে অনুষ্টিত প্রতিবাদ সভায় ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের’ বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মাঠকে ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

রুবেল আহমদ এর পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন শাহী ঈদগাহ এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বী জনাব তারু মিয়া। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন শাহী ঈদগাহ এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব বদরুজ্জমান সেলিম খেলার মাঠে মেলা ও গরুর বাজার স্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেন।

একই সাথে খেলার মাঠ রক্ষায় সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন, মানব বন্ধন, বিভিন্ন ধরণের খেলার আয়োজন করা, জাতীয় দিবসে শিশু কিশোরদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন ও এলাকায় খেলোয়ার তৈরির জন্য বিকেএসপি থেকে কোচ নিয়োগের প্রস্তাব করেন।

প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল, ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব দিনার খান হাসু, গুলজার আহমদ। প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন সর্বজনাব আমিনুর রহমান খোকন, জিয়াউদ্দিন চৌধুরী লিটন, শাহীন আহমদ, সাকের আহমদ, হীরা আহমদ, মো: হারুন, স্বপন আহমদ, শাহীন আহমদ, শাহজাহান আহমদ, জাহিদ আহমদ, ফাহিম আহমদ, মনির উদ্দিন, ফয়সল আহমদ, আব্দুর রউজ, ফেরদৌস আহমদ, সুমন আহমদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, এবারই প্রথম নয়। এই খেলার মাঠে কয়েক বছর ধরে এমই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, পাশাপাশি কোরবানীর সময়ে পশুর হাটও বসানো হয়। ফলে বছরের প্রায় আট মাস মাঠ ব্যবহারে অনুপযোগি থাকে। এতে করে স্থানীয় এলাকার শিশু-কিশোর-তরুণরা খেলাধুলা থেকে বি ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, আসলে মেলার মাধ্যমে মাঠ ব্যবহার করে কিছু লোক কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। এটা আসলেই টাকা মেলা।

প্রসঙ্গত, সিলেট সদর উপজেলা খেলার মাঠ (প্রস্তাবিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে) দখলের পায়তারায় লিপ্ত ছিলো একটি প্রভাবশালী মহল। তখন স্থানীয় বাসিন্দাসহ সিলেটের ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন মহল আন্দোলন সংগ্রাম করে মাঠটিকে ভূমিখেকো চক্রের হাত থেকে রক্ষা করেন। পরে মাঠে একটি স্থায়ী ম ও নির্মাণ হয়। সেখানে মাসব্যাপী সিলেটের সাংবাদিকদের জন্য একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। সেটিতে সিলেটের স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। এরপর মাঠটির নামকরণ করা হয় সদর উপজেলা খেলার মাঠ। চলতি বছরের শুরুতে এই মাঠটি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামের জন্য উন্নয়ন কাজ চলছে।

বিগত দুই একবছর আগে মাঠে মেলা আয়োজনের ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ প্রকাশ্যেই সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন আগামীতে এই মাঠে আর কোন মেলা আয়োজন করা হবে না। কিন্তু এরপর এই মাঠে আরোও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর নজির এখন সিলেটবাসীর সামনেই। বুধবার দুপুরে এই মাঠে আবারোও মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে চেয়ে চেয়ারম্যান আশফাকের বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তার ফোন রিসিভ হয়নি।

Facebook Comments

Leave a Reply