খেলার চেয়ে পরিবার অনেক আগে: মাশরাফি

sylpro24
sylpro24

অসুস্থ স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য গত ৩০ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন মাশরাফি। ছেলে সাহেলেরও তখন প্রচণ্ড জ্বর। এর মধ্যেই আবার মেয়ে হুমায়রার পুরোনো চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে প্রবলভাবে। সব মিলিয়ে কয়েকটা দিন সত্যিকার অর্থেই দিশেহারা অবস্থা ছিল। সবকিছু একটু সামলে শনিবার সন্ধ্যায় আবার ফিরে যাচ্ছেন মাশরাফি।

শুক্রবার সাসেক্সে প্রস্ততি ম্যাচ দিয়েই অনুশীলন ক্যাম্প পর্ব শেষ। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে রোববারই বেলফাস্টে যাবে বাংলাদেশ দল। লন্ডন হয়ে অধিনায়ক দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সরাসরি বেলফাস্টে। ফেরার যাত্রায় মাশরাফির সঙ্গী ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ও বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস।

শনিবার দুপুরেও মেয়েকে চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাশরাফি। স্ত্রীকে নিয়েও খানিকটা দুর্ভাবনা আছে। সোমবার রাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। একটি বায়োপসি রিপোর্ট পাওয়ার কথা শনিবার রাতে। মাশরাফির ইচ্ছা ছিল রিপোর্টটা পেয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে ফিরে যাওয়া। কিন্তু বেলফাস্টের কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে হলে সন্ধ্যায় রওনা হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

সাসেক্সে ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেননি। তবে ওসব নিয়ে ভাবার অবকাশও ছিল না।  মাশরাফি জানালেন, খেলা নিয়ে ভাবার অবকাশও ছিল না এই কদিন।

“ক্যাম্পে থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। যে ঠান্ডা দেখে আসছি, তাতে মানিয়ে নেওয়াটা খুব জরুরি। তবে পরিস্থিতি যা ছিল এখানে, তাতে ওসব ভাবারও সুযোগ নেই। যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে। আসতে পেরেছি, পরিবারকে সময় দিতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

“এমনও হতে পারত যে আরও পরে যেতে হচ্ছে। এমনকি নাও যেতে পারতাম। সবকিছু‌ই এখন নিয়ন্ত্রণে। যদিও ধাক্কাটা পুরোপুরি সামলাইনি, বায়োপসি রিপোর্টটা পাইনি এখনও। তার পরও আশা করছি, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

১২ মে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু। তার আগে ১০ মে বেলফাস্টে প্রস্তুতি ম্যাচ। এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিরে যেতে পারছেন, এতেই নিজেকে ভাগ্যবান মানছেন মাশরাফি।

“খারাপের মধ্যেও ভালো যে মূল খেলা শুরুর বেশ আগেই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে। খেলা শুরুর পরও এরকম হলে আমি ফিরতাম, ফিরতে হতোই। এটাই স্বাভাবিক। স্ত্রী অসুস্থ, আমার বাচ্চা দুটো চার-পাঁচদিন মায়ের থেকে আলাদা ছিল। এসময় দরকার ছিল আমাকে। ছেলেটার জ্বর ছিল। মেয়েটার চোখে অনেক সমস্যা। পরিস্থিতি অনেক কঠিন ছিল। হয়ত ৬-৭ দিনের ব্যাপার, কিন্তু কঠিন ছিল। মন্দের ভালো যে খেলা শুরুর আগেই হয়েছে। এখন ফিরতেও পারছি।”

জীবনে কঠিন সময় তো কম আসেনি। প্রথম সন্তান জন্মের সময় দীর্ঘদিন আইসিইউতে ছিলেন স্ত্রী। যমে-মানুষে টানাটানি শেষে বেঁচে ফিরেছিলেন। ২০১৫ বিশ্বকাপ চলার সময় ভীষণ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিল ছেলে। নিজের তো ক্যারিয়ার জুড়েই শরীরের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন যুদ্ধ।

তবে এসবের মধ্যেও এবার আরও একবার উপলব্ধি করতে পেরেছেন জীবনের বড় একটা সত্য, সবকিছুর আগে পরিবার।

“এসব হয়ত আমাকে আরও শক্ত করে। সবকিছই মসৃণ চললে তো আর সেটা জীবন নয়। এসবের মধ্য দিয়েই যেতে হয় জীবনে। আর খেলার চেয়ে পরিবার অনেক অনেক আগে। আমি নিজেও আরেকবার বুঝতে পারলাম।”

উদ্বেগ আর শঙ্কা নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে ফিরেছিলেন যে মাশরাফি, তিনি ফিরে যাচ্ছেন আরও শানিত হয়ে!

Facebook Comments

Leave a Reply