আজঃ ২রা পৌষ ১৪২৫ - ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ - সকাল ৮:৩৫

খুলনায় বিতর্কিতদের নিয়ে মহানগর যুবদলের কমিটি

Published: অক্টো ০২, ২০১৮ - ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: খুলনা মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা প্রচেষ্টার আসামি, প্রবাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে করা হয়েছে যুবদলের মহানগর কমিটি। যার ফলে অনেক ত্যাগী নেতা এ কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরাই বড় বড় পদ পেয়েছেন বলে জানা যায়। এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর নগর যুবদলের ২২৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় যুবদল অনুমোদন করে। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

কমিটিতে মাহাবুব হাসান পিয়ারুকে সভাপতি এবং নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ২৬ জন সহসভাপতি, ২৮ জন যুগ্ম সম্পাদক, ১৬ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ৬৮ জন সম্পাদক ও সহসম্পাদক এবং ৭০ জন সদস্য করা হয়েছে।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রোবায়েদ হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামিরা নগর যুবদলের বড় পদ পেয়েছেন।

২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর নগরীর ইকবালনগর রোডের কেডিএ এভিনিউতে রোবায়েদকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলে তার ভাই ইমদাদুল হক বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেয়েছেন অনেকেই। নগরের সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সালাউদ্দিন মোল্লা বুলবুল, নাজমুল হাসান নাসিম ও মাহমুদ হাসান বিপ্লব, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে জিহাদুল হক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান বাবু এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন মফিজুল ইসলাম মফিজ।

এছাড়া মালেশিয়ার প্রবাসী মো. এনায়েত হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সোনাডাঙ্গা থানায় অস্ত্র মামলার আসামি সাইফুল ইসলামকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

মাদক বিকিকিনি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে কমিটির সহসভাপতি মেহেদী মাসুদ সেন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপ্লবসহ অন্তত ডজনখানেক নেতার বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের পদে থাকা অবস্থায় যুবদলে পদ পেয়েছেন সাইফুল ও মিজানুর রহমান বাবু। অবশ্য রানা, রূপম, তৌহিদ ও মফিদুল পদত্যাগপত্র দিয়েই যুবদলে যোগদান করেছেন।

এদিকে দেড় বছর আগে সুপার ফাইভ ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নেহিবুল হাসান নেহিমকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক থাকা অবস্থায় আবদুল আজিজ সুমনকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। আজিজ বিএনপিতে কোনো পদত্যাগপত্র দেননি।

নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর যুগান্তরকে বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় কমিটিই বিচার-বিবেচনা করে কমিটি দিয়েছে। ১৪ বছর পর খুলনা মহানগরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। এতে ভুল-ত্র“টি হতেই পারে। মাদক ও অস্ত্র দিয়ে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিচ্ছে।

প্রবাসী নয় এনায়েত মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করে। সে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে জড়িত। মহানগর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করে যুবদলে এসেছে। আর যারা এখনও দুটি পদে আছে তারা দ্রুত পদত্যাগ করবে। আমার অনুসারীরা নয় প্রকৃত মাঠের কর্মীদেরকেই পদ দেয়া হয়েছে।’

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: খুলনা মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা প্রচেষ্টার আসামি, প্রবাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী, বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে করা হয়েছে যুবদলের মহানগর কমিটি। যার ফলে অনেক ত্যাগী নেতা এ কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরাই বড় বড় পদ পেয়েছেন বলে জানা যায়। এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর নগর যুবদলের ২২৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় যুবদল অনুমোদন করে। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

কমিটিতে মাহাবুব হাসান পিয়ারুকে সভাপতি এবং নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ২৬ জন সহসভাপতি, ২৮ জন যুগ্ম সম্পাদক, ১৬ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ৬৮ জন সম্পাদক ও সহসম্পাদক এবং ৭০ জন সদস্য করা হয়েছে।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রোবায়েদ হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামিরা নগর যুবদলের বড় পদ পেয়েছেন।

২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর নগরীর ইকবালনগর রোডের কেডিএ এভিনিউতে রোবায়েদকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলে তার ভাই ইমদাদুল হক বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেয়েছেন অনেকেই। নগরের সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সালাউদ্দিন মোল্লা বুলবুল, নাজমুল হাসান নাসিম ও মাহমুদ হাসান বিপ্লব, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে জিহাদুল হক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান বাবু এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন মফিজুল ইসলাম মফিজ।

এছাড়া মালেশিয়ার প্রবাসী মো. এনায়েত হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সোনাডাঙ্গা থানায় অস্ত্র মামলার আসামি সাইফুল ইসলামকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

মাদক বিকিকিনি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে কমিটির সহসভাপতি মেহেদী মাসুদ সেন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপ্লবসহ অন্তত ডজনখানেক নেতার বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের পদে থাকা অবস্থায় যুবদলে পদ পেয়েছেন সাইফুল ও মিজানুর রহমান বাবু। অবশ্য রানা, রূপম, তৌহিদ ও মফিদুল পদত্যাগপত্র দিয়েই যুবদলে যোগদান করেছেন।

এদিকে দেড় বছর আগে সুপার ফাইভ ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নেহিবুল হাসান নেহিমকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক থাকা অবস্থায় আবদুল আজিজ সুমনকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। আজিজ বিএনপিতে কোনো পদত্যাগপত্র দেননি।

নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর যুগান্তরকে বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় কমিটিই বিচার-বিবেচনা করে কমিটি দিয়েছে। ১৪ বছর পর খুলনা মহানগরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। এতে ভুল-ত্র“টি হতেই পারে। মাদক ও অস্ত্র দিয়ে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিচ্ছে।

প্রবাসী নয় এনায়েত মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করে। সে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে জড়িত। মহানগর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করে যুবদলে এসেছে। আর যারা এখনও দুটি পদে আছে তারা দ্রুত পদত্যাগ করবে। আমার অনুসারীরা নয় প্রকৃত মাঠের কর্মীদেরকেই পদ দেয়া হয়েছে।’

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর