আজঃ ১লা কার্তিক ১৪২৫ - ১৬ই অক্টোবর ২০১৮ - দুপুর ১২:৫৩

খুনি সুদখোর অর্থ পাচারকারীরা একজোট হয়েছে

Published: সেপ্টে ২৫, ২০১৮ - ২:০৭ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: ড. কামাল হোসেন ও ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘দুর্নীতিবাজদের’ সঙ্গে নিয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনি, অর্থ পাচারকারী ও সুদখোররা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। এরা দেশের সম্পদ লুটে খেয়েছে। ক্ষমতায় গেলে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ধ্বংস করবে। কাজেই জনগণকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’

সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ‘যুক্তফ্রন্ট’ এবং ডা. কামালের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ শনিবার মহানগর নাট্যামঞ্চে নাগরিক সমাবেশ করে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ওই সমাবেশে যোগ দেন। যোগ দেন আরও কিছু ছোট দলের নেতারাও। ওই সমাবেশ থেকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সংলাপে বসে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে সরকারকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এ দাবি না মানা হলে পরদিন থেকে আন্দোলন শুরু হবে এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়। সমাবেশ মঞ্চে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কামাল হোসেনের পাশে বসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টর মইনুল হোসেন।

নাগরিক সমাবেশে নেতাদের দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অপরাধটা কী? দোষটা কী? সরকার উৎখাত করতে হবে কেন? কী কারণে? কী কাজটা করিনি দেশের জন্য?’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা যুক্তফ্রন্ট ও ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এরা সব এক জায়গায়। কেউ সুদখোর, কেউ ঘুষখোর, কেউ মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত, কেউ খুনি। এভাবে সব আজ এক জায়গায়। এসব দুর্নীতিবাজকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা লড়াই করবেন! কামাল হোসেন লড়াই করবেন? বি চৌধুরী লড়াই করবেন? মান্না লড়াই করবে?’

বদরুদ্দোজা-কামালদের সমাবেশে ব্যারিস্টর মইনুল হোসেনের উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার সঙ্গে গেছেন মইনুল হোসেন। সে আবার কাকরাইলের বাড়ির জমি দখল করে; সে জায়গা নিয়ে মামলা আছে। সাজু হোসেন ভার্সেস রাষ্ট্র। সে মামলায় সে সাজাপ্রাপ্ত।’

‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে এক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে দখল নেয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা সব এখন এক জায়গায় হয়েছে।’

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এমডি মুহাম্মদ ইউনূসেরও সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়েন না। কারণ এমডির পদ ছাড়লে তো গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা মারা যাবে না। বক্তব্যে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে নতুন দল গঠনে ড. কামালের ব্যর্থ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে (বি চৌধুরী) যে রেললাইনের ওপর দিয়ে ধাওয়া করে, সে কথাও স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতকিছুর পরও আমি চাইব তারা একটি জোট গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। তারা যদি জনগণের ভোট পায়, তাহলে ক্ষমতায় আসবে। যেহেতু তারা একটি জায়গায় সমবেত হতে পেরেছে, সেজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৩, ১৪, ১৫- এই তিন বছরে বিএনপি-জামাতের পেট্রলবোমা হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৮-২৯ জন সদস্যসহ ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ফলে সরকার বাধ্য হয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে।’

তিনি বলেন ‘তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তা রাজনৈতিক নয়। এগুলো হত্যা মামলা। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলা।’ দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে চলেছি। ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বিষয় নয়। এটাকে আমি জনগণকে সেবা দেয়ার একটি সুযোগ হিসেবেই বিবেচনা করি। জনগণ যদি চায় তাহলেই ক্ষমতায় থাকব, না হলে নয়।’

সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করার জন্যই আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছি। সাংবাদিকদের একটি অংশ এই আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছে। কিন্তু আমি পরিষ্কার বলে দিতে চাই, তারা এসব করছে নিজস্ব স্বার্থে। ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সমাজের যে ক্ষতি হচ্ছে সেদিকে তাদের দৃষ্টি নেই।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করায় এবং তার সরকারের প্রদত্ত লাইসেন্স গ্রহণ করে দেশে বিপুল সংখ্যক সংবাদপত্র এবং নিউজ চ্যানেল আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা অবাধে তাদের নিজস্ব মতামত প্রচার করে যাচ্ছে।’

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন চাইলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। শিগগিরই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, ডাইরেক্ট ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক আসতে পারব।

হিলটন হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বলানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুরে তিনি নিউইয়র্ক পৌঁছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। একই দিন তার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: ড. কামাল হোসেন ও ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘দুর্নীতিবাজদের’ সঙ্গে নিয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনি, অর্থ পাচারকারী ও সুদখোররা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। এরা দেশের সম্পদ লুটে খেয়েছে। ক্ষমতায় গেলে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ধ্বংস করবে। কাজেই জনগণকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’

সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ‘যুক্তফ্রন্ট’ এবং ডা. কামালের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ শনিবার মহানগর নাট্যামঞ্চে নাগরিক সমাবেশ করে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ওই সমাবেশে যোগ দেন। যোগ দেন আরও কিছু ছোট দলের নেতারাও। ওই সমাবেশ থেকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সংলাপে বসে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে সরকারকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এ দাবি না মানা হলে পরদিন থেকে আন্দোলন শুরু হবে এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়। সমাবেশ মঞ্চে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কামাল হোসেনের পাশে বসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টর মইনুল হোসেন।

নাগরিক সমাবেশে নেতাদের দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অপরাধটা কী? দোষটা কী? সরকার উৎখাত করতে হবে কেন? কী কারণে? কী কাজটা করিনি দেশের জন্য?’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা যুক্তফ্রন্ট ও ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এরা সব এক জায়গায়। কেউ সুদখোর, কেউ ঘুষখোর, কেউ মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত, কেউ খুনি। এভাবে সব আজ এক জায়গায়। এসব দুর্নীতিবাজকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা লড়াই করবেন! কামাল হোসেন লড়াই করবেন? বি চৌধুরী লড়াই করবেন? মান্না লড়াই করবে?’

বদরুদ্দোজা-কামালদের সমাবেশে ব্যারিস্টর মইনুল হোসেনের উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার সঙ্গে গেছেন মইনুল হোসেন। সে আবার কাকরাইলের বাড়ির জমি দখল করে; সে জায়গা নিয়ে মামলা আছে। সাজু হোসেন ভার্সেস রাষ্ট্র। সে মামলায় সে সাজাপ্রাপ্ত।’

‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে এক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে দখল নেয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা সব এখন এক জায়গায় হয়েছে।’

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এমডি মুহাম্মদ ইউনূসেরও সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়েন না। কারণ এমডির পদ ছাড়লে তো গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা মারা যাবে না। বক্তব্যে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে নতুন দল গঠনে ড. কামালের ব্যর্থ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে (বি চৌধুরী) যে রেললাইনের ওপর দিয়ে ধাওয়া করে, সে কথাও স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতকিছুর পরও আমি চাইব তারা একটি জোট গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। তারা যদি জনগণের ভোট পায়, তাহলে ক্ষমতায় আসবে। যেহেতু তারা একটি জায়গায় সমবেত হতে পেরেছে, সেজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৩, ১৪, ১৫- এই তিন বছরে বিএনপি-জামাতের পেট্রলবোমা হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৮-২৯ জন সদস্যসহ ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ফলে সরকার বাধ্য হয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে।’

তিনি বলেন ‘তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তা রাজনৈতিক নয়। এগুলো হত্যা মামলা। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলা।’ দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে চলেছি। ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বিষয় নয়। এটাকে আমি জনগণকে সেবা দেয়ার একটি সুযোগ হিসেবেই বিবেচনা করি। জনগণ যদি চায় তাহলেই ক্ষমতায় থাকব, না হলে নয়।’

সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করার জন্যই আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছি। সাংবাদিকদের একটি অংশ এই আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছে। কিন্তু আমি পরিষ্কার বলে দিতে চাই, তারা এসব করছে নিজস্ব স্বার্থে। ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সমাজের যে ক্ষতি হচ্ছে সেদিকে তাদের দৃষ্টি নেই।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করায় এবং তার সরকারের প্রদত্ত লাইসেন্স গ্রহণ করে দেশে বিপুল সংখ্যক সংবাদপত্র এবং নিউজ চ্যানেল আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা অবাধে তাদের নিজস্ব মতামত প্রচার করে যাচ্ছে।’

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন চাইলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। শিগগিরই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, ডাইরেক্ট ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক আসতে পারব।

হিলটন হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বলানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুরে তিনি নিউইয়র্ক পৌঁছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। একই দিন তার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর