আজঃ ৩রা পৌষ ১৪২৫ - ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৮ - সকাল ৭:৪৫

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় বদরুলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

Published: মার্চ ০৮, ২০১৭ - ১২:২৫ অপরাহ্ণ

sylpro24sylpro24

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের হত্যাচেষ্টা মামলায় একমাত্র আসামি বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (০৮ মার্চ) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা এ রায় ঘোষণা করবেন। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত বদরুল আলম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার (০৫ মার্চ) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষের পর রায়ের এ দিন ধার্য করেন আদালতের বিচারক।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন- বিচারিক প্রক্রিয়ার ১৩২ দিনের মাথায় তথা ১১ কার্যদিবসে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ব নারী দিবসে আদালতের এ রায়ে নার্গিস ন্যায় বিচার পেয়েছেন।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী।

এর আগে সকাল ১০টায় বদরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

গত বছরের ৩ অক্টোবর বিকেলে পরীক্ষা শেষে এমসি কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হয় নার্গিস। ক্যাম্পাসে পুকুর পাড় সংলগ্ন সড়কে তার পথ আগলে ধরে বদরুল। হাত ধরে প্রেম নিবেদনের চেষ্টা, অতঃপর তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় নার্গিসকে উপুর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। রাস্তায় যখন জ্ঞান হারিয়ে নার্গিস মৃতপ্রায়, তখনও হায়েনার মতো তার ওপর চাপাতি নিয়ে আঁছড়ে পড়েছিল বদরুল।

হামলার পর কথিত প্রেমিক শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। হামলার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন-সমাবেশ হয়।

রক্তাক্ত নার্গিসকে উদ্ধারের পর সিলেট ওসমানী হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর তাকে সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয়। সেখানে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরেন নার্গিস।

এদিকে, ঘটনার পরদিন (০৪ অক্টোবর) নার্গিসের চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
৮ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশীদ আদালতে বদরুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

২৯ নভেম্বর সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ৫ ডিসেম্বর সাক্ষী দেন ১৭ জন, ১১ ডিসেম্বর নার্গিসের মা-বাবা ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৫ জন এবং ১৫ ডিসেম্বর সাক্ষী দেন স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক। সবশেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য দেন নার্গিস।

মামলায় ৩৬ সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন শেষে ১ মার্চ মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ৫ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে ৮ মার্চ এ মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করা হয়।

Facebook Comments

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের হত্যাচেষ্টা মামলায় একমাত্র আসামি বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (০৮ মার্চ) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা এ রায় ঘোষণা করবেন। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত বদরুল আলম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার (০৫ মার্চ) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষের পর রায়ের এ দিন ধার্য করেন আদালতের বিচারক।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন- বিচারিক প্রক্রিয়ার ১৩২ দিনের মাথায় তথা ১১ কার্যদিবসে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ব নারী দিবসে আদালতের এ রায়ে নার্গিস ন্যায় বিচার পেয়েছেন।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী।

এর আগে সকাল ১০টায় বদরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালত প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

গত বছরের ৩ অক্টোবর বিকেলে পরীক্ষা শেষে এমসি কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হয় নার্গিস। ক্যাম্পাসে পুকুর পাড় সংলগ্ন সড়কে তার পথ আগলে ধরে বদরুল। হাত ধরে প্রেম নিবেদনের চেষ্টা, অতঃপর তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় নার্গিসকে উপুর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। রাস্তায় যখন জ্ঞান হারিয়ে নার্গিস মৃতপ্রায়, তখনও হায়েনার মতো তার ওপর চাপাতি নিয়ে আঁছড়ে পড়েছিল বদরুল।

হামলার পর কথিত প্রেমিক শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। হামলার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন-সমাবেশ হয়।

রক্তাক্ত নার্গিসকে উদ্ধারের পর সিলেট ওসমানী হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর তাকে সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয়। সেখানে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরেন নার্গিস।

এদিকে, ঘটনার পরদিন (০৪ অক্টোবর) নার্গিসের চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
৮ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশীদ আদালতে বদরুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

২৯ নভেম্বর সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ৫ ডিসেম্বর সাক্ষী দেন ১৭ জন, ১১ ডিসেম্বর নার্গিসের মা-বাবা ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৫ জন এবং ১৫ ডিসেম্বর সাক্ষী দেন স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক। সবশেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য দেন নার্গিস।

মামলায় ৩৬ সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন শেষে ১ মার্চ মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ৫ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে ৮ মার্চ এ মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করা হয়।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর