আজঃ ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - সকাল ৯:৫০

কুলাউড়ায় ভাগ্নীসহ একদিনে তিন ধর্ষন!

Published: এপ্রি ১৭, ২০১৮ - ৮:২১ অপরাহ্ণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ::মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ফুফা কর্তৃক ভাগ্নীসহ তিনটি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে আতষ্ক বিরাজ করলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সফলতার সাথে তিন নরপশুকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তিনটি ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা রেকর্ডও করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হল কর্মধা ইউনিয়নের ছমির আলী (৪৫), জয়চ-ী ইউনিয়নের রাছেল মিয়া (২০) ও ভন্ড করিবার প্রতারক মানিক মিয়া।

কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার স্থানী চা বাগানের বাসিন্দা ১৭ বছরের এক তরুনী গত সোমবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে পুকুর পারে পান সংগ্রহে গেলে লম্পট রাছেল জোরপূর্বক পাশের জঙ্গল নিয়ে ধর্ষন করে। একপর্যায়ে তরুনীকে গাজীপুর এলাকায় নিয়ে একটি বাড়িতে রাখতে চাইলে সবর্ত্র জানাজানি হলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তরুনীকে উদ্ধার করে। পরে ওই তরুনী বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি ধর্ষন মামলা ( মামলা নং-২৮, ১৬/০৪/১৮) দায়ের করে। পরে কুলাউড়া থানার এসএই শনক কান্তির নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুর এলাকা থেকে লম্পট রাছেলকে আটক করে। রাছেল উপজেলার জয়চ-ী ইউনিয়নের পাচপীর জালাই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। ধর্ষক রাছেলকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ভিকটিম মেডিকেল চেকআপের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে আপন ফুফা কর্তৃক ভাগ্নীকে ধর্ষনের অভিযোগে ছমির আলী (৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ। ফুফার এমন ন্যাক্কারজনক কাজে ওই ভাগ্নী বর্তমানে আন্ত:সত্তা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সানাউল্লাহ জানান, একটি হত্যার মামলার আসামি হিসেবে ১৯ বছর বয়সী ওই ভিকটিমের বাবা পালাতক রয়েছে। এজন্য ফুফার বাড়িত থাকত মেয়েটি। বাড়িতে থাকাবস্থায় বাবা শূন্যতা পূরণ করতে গিয়ে নানা সময় ভাগ্নীর আবদার মেটাতেন ফুফা। এরই সুবাদে দুই দিন ফুফা ছমির আলী ভাগ্নী (১৯)কে ধর্ষন করেছেন এমন অভিযোগ করেছেন ভিকটিম। ধর্ষনের পরে ভাগ্নীকে আপন ভাতিজার কাছে বিয়ে দেন ফুফা। বিয়ের পর ভাগ্নী শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে স্বামী ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেলে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে বিয়ের চেয়ে অনাগত বাচ্চার বয়স বেশি। এসময় স্বামীর চাপের মূখে ধর্ষনের ঘটনার বিবরন দিয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেন ভাগ্নী। পরে ফুফাকে আটক করে পুলিশ।

অন্যদিকে জেলার কবিরাজি করে চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করার নাম করে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগে কবিরাজ মানিক মিয়া (২৮)কে আটক করেছে পুলিশ। আটক মানিক মিয়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়িনের পূর্ব ফটিককুলী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় সে একজন সিএনজি চালক। সে কবিরাজির নাম করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭এপ্রিল) ভোরে উপজেলার মহিষমারা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
কুলাউড়া থানার এসআই শাহিন জানান, মহিষমারা গ্রামের একটি পরিবারের মোবাইল চুরি হয়েছে গত পরশু। প্রতিবেশির মাধ্যমে তারা জানতে পারেন কর্মধা ইউনিয়নের মানিক মিয়া কবিরাজিরর মাধ্যমে মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারে। পরে সোমবার (১৬এপ্রিল) রাত প্রায় এগারোটার দিকে তাদের বাড়িতে যায়।

প্রথমে তাবিজ লিখে এক জনকে তা পোড়াতে বলে। ভিকটিমকে হাড়ির মধ্যে কচুপাতায় মোড়ানো তাবিজ নিয়ে তিন রাস্তায় আসতে বলে। রাত ৩টার দিকে ভিকটিমের ছোটবোন ছাড়া কাউকে সাথে আসতে দেয়নি মানিক কবিরাজ। তিন রাস্তার মোড়ে আসলে ছোট বোনকে রেখে ভিকটিমকে আড়ালে আসতে বলে মানিক। না আসলে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে ভিকটিমকে ঝোপে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি টের পেয়ে ভিকটিমের ছোট বোন বাসায় খবর দেয়। এর পর তার ভাই পুলিশের ৯৯৯ সার্ভিস নাম্বারে কল দিলে কুলাউড়া থানা পুলিশ মানিককে ভোরে গ্রেফতার করে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শামীম মুছা বলেন, তিন ধর্ষককেই আটক করা হয়েছে।

Facebook Comments

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ::মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ফুফা কর্তৃক ভাগ্নীসহ তিনটি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে আতষ্ক বিরাজ করলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সফলতার সাথে তিন নরপশুকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তিনটি ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা রেকর্ডও করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হল কর্মধা ইউনিয়নের ছমির আলী (৪৫), জয়চ-ী ইউনিয়নের রাছেল মিয়া (২০) ও ভন্ড করিবার প্রতারক মানিক মিয়া।

কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার স্থানী চা বাগানের বাসিন্দা ১৭ বছরের এক তরুনী গত সোমবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে পুকুর পারে পান সংগ্রহে গেলে লম্পট রাছেল জোরপূর্বক পাশের জঙ্গল নিয়ে ধর্ষন করে। একপর্যায়ে তরুনীকে গাজীপুর এলাকায় নিয়ে একটি বাড়িতে রাখতে চাইলে সবর্ত্র জানাজানি হলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তরুনীকে উদ্ধার করে। পরে ওই তরুনী বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি ধর্ষন মামলা ( মামলা নং-২৮, ১৬/০৪/১৮) দায়ের করে। পরে কুলাউড়া থানার এসএই শনক কান্তির নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুর এলাকা থেকে লম্পট রাছেলকে আটক করে। রাছেল উপজেলার জয়চ-ী ইউনিয়নের পাচপীর জালাই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। ধর্ষক রাছেলকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ভিকটিম মেডিকেল চেকআপের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে আপন ফুফা কর্তৃক ভাগ্নীকে ধর্ষনের অভিযোগে ছমির আলী (৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ। ফুফার এমন ন্যাক্কারজনক কাজে ওই ভাগ্নী বর্তমানে আন্ত:সত্তা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সানাউল্লাহ জানান, একটি হত্যার মামলার আসামি হিসেবে ১৯ বছর বয়সী ওই ভিকটিমের বাবা পালাতক রয়েছে। এজন্য ফুফার বাড়িত থাকত মেয়েটি। বাড়িতে থাকাবস্থায় বাবা শূন্যতা পূরণ করতে গিয়ে নানা সময় ভাগ্নীর আবদার মেটাতেন ফুফা। এরই সুবাদে দুই দিন ফুফা ছমির আলী ভাগ্নী (১৯)কে ধর্ষন করেছেন এমন অভিযোগ করেছেন ভিকটিম। ধর্ষনের পরে ভাগ্নীকে আপন ভাতিজার কাছে বিয়ে দেন ফুফা। বিয়ের পর ভাগ্নী শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে স্বামী ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেলে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে বিয়ের চেয়ে অনাগত বাচ্চার বয়স বেশি। এসময় স্বামীর চাপের মূখে ধর্ষনের ঘটনার বিবরন দিয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেন ভাগ্নী। পরে ফুফাকে আটক করে পুলিশ।

অন্যদিকে জেলার কবিরাজি করে চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করার নাম করে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগে কবিরাজ মানিক মিয়া (২৮)কে আটক করেছে পুলিশ। আটক মানিক মিয়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়িনের পূর্ব ফটিককুলী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় সে একজন সিএনজি চালক। সে কবিরাজির নাম করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭এপ্রিল) ভোরে উপজেলার মহিষমারা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
কুলাউড়া থানার এসআই শাহিন জানান, মহিষমারা গ্রামের একটি পরিবারের মোবাইল চুরি হয়েছে গত পরশু। প্রতিবেশির মাধ্যমে তারা জানতে পারেন কর্মধা ইউনিয়নের মানিক মিয়া কবিরাজিরর মাধ্যমে মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারে। পরে সোমবার (১৬এপ্রিল) রাত প্রায় এগারোটার দিকে তাদের বাড়িতে যায়।

প্রথমে তাবিজ লিখে এক জনকে তা পোড়াতে বলে। ভিকটিমকে হাড়ির মধ্যে কচুপাতায় মোড়ানো তাবিজ নিয়ে তিন রাস্তায় আসতে বলে। রাত ৩টার দিকে ভিকটিমের ছোটবোন ছাড়া কাউকে সাথে আসতে দেয়নি মানিক কবিরাজ। তিন রাস্তার মোড়ে আসলে ছোট বোনকে রেখে ভিকটিমকে আড়ালে আসতে বলে মানিক। না আসলে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে ভিকটিমকে ঝোপে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি টের পেয়ে ভিকটিমের ছোট বোন বাসায় খবর দেয়। এর পর তার ভাই পুলিশের ৯৯৯ সার্ভিস নাম্বারে কল দিলে কুলাউড়া থানা পুলিশ মানিককে ভোরে গ্রেফতার করে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শামীম মুছা বলেন, তিন ধর্ষককেই আটক করা হয়েছে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর