কানাইঘাট প্রেসক্লাবে সাতবাক সচেতন নাগরিক কমিটির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

sylhetprotidin24

কানাইঘাট প্রতিনিধি:: কানাইঘাটের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী চরিপাড়া স্কুল ও কলেজের মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি বাতিল এবং বিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে স্কুলের ৮ম শ্রেণির জনৈক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসলাম উদ্দিনকে স্কুল থেকে বহিষ্কারের দাবী জানিয়েছেন কানাইঘাট সাতবাঁক সচেতন নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার বিকেল ২টায় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে কানাইঘাট প্রেসক্লাব কার্যালয়ে  সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহ্যবাহী চরিপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের বিরাজমান সমস্যা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক ইসলাম উদ্দিনকে স্কুল থেকে বহিস্কার এবং সম্প্রতি চরিপাড়া স্কুলে ঘটে যাওয়া ছাত্রীদের নিগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ইউপি সদস্য আলহাজ শাব্বির আহমদ বলেন, চরিপাড়া বিদ্যালয়ের কতপয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির চরম ব্যর্থতার কারনে স্কুলটির ভাবমুর্তি আজকে প্রশ্নের সম্মুখীন। মন উক্তি ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ফলে স্কুলে সু-শৃঙ্খল বলতে কিছুই নেই। মাঝেমধ্যে স্কুলের ছাত্রীরা কতিপয় শিক্ষকদের যৌন নির্যাতনের স্বীকার হন। সর্বশেষ স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন কর্তৃক অষ্টম শ্রেণীর গরীব ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উক্ত শিক্ষককে অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাকে বিদ্যালয় থেকে বিহষ্কার করতে হবে।

স্কুলের ভাবমুর্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আজ বুধবার নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সাতবাঁক ইউপি কার্যালয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণের সাথে মতবিনিময়. আগামীকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়, আগামী শুক্রবার স্থানীয় লোভারমুখ বাজারে চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও আগামী রবিবার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কানাইঘাটের একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের কতিপয় শিক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের নিগ্রহ করা হয়। শিক্ষকরা তাদের অধ্যয়নরত ছাত্রীদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে পর্যন্ত করেছেন। যা নৈতিক শৃঙ্খলা বিরোধী। বার বার এসব অনৈতিক কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়ার পরও দুর্বল ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসব ঘটনার আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করলেও সব সময় মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়, অভিভাবকদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ জগন্য কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেন। তারা ছাত্রীর পরিবারকে নানা ভাবে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে সত্য ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সুনাম রক্ষার জন্য জাতির বিবেক সাংবাদিক সহ দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আ’লীগ নেতা আব্দুল জলিল, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ, আব্দুল কাহির, মঈন উদ্দিন, সাতবাঁক ইউপি আ’লীগের সভাপতি হাজী মখদ্দুছ আলী, বশির আহমদ, সাতবাঁক ইউপি সদস্য আব্দুন নুর, ফারুক আহমদ, হেলাল উদ্দিন মামুন, রইছ উদ্দিন, নুরুল আলম, আ’লীগ নেতা আলী আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা বখতিয়ার হোসেন প্রমুখ।

Facebook Comments

Leave a Reply