আজঃ ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ - ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ - সকাল ৭:৩৯

এশার উপর নির্যাতন : সোচ্চার হোন ছাত্রলীগ

Published: এপ্রি ১৫, ২০১৮ - ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

মো. মুন্না মিয়া :: ইফ্ফাত জাহান এশা। বাংলাদেশের সর্ব্বোচ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি। গত মঙ্গলবার রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের গুজবে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল ছাত্রলীগ ও ঢাবি প্রশাসন। যদিও ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি এশার বিরুদ্ধে গুজবের কোনো প্রমাণ পায়নি। ফলে তাকে স্বপদে বহাল রেখেছে সংগঠন। আর ঢাবি প্রশাসন এখনো তাদের পূর্বের ঘোষিত বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খুলেনি।

যদিও ঢাবি উপাচার্য গত শুক্রবার বেসরকারি একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে বলেন,‘এশার ছাত্রত্ব ফিরে পাবে বলে মন্তব্য করেছেন এবং এশাকে সম্মানিত করা হবে বলে জানিয়েছেন।’

“এখন দেখার ব্যাপার কতটুকু সম্মান পায় এই ছাত্রলীগ নেত্রী ইফ্ফাত।”

শুধু কি ছাত্রত্ব আর রাজনৈতিক পদ ফিরিয়ে দিলে কি ছাত্রলীগ আর ঢাবি প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হবে? মোটেই না। কেননা তার (এশা) উপর গুজব রটানো হয়েছে তিনি একই হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা আক্তারের ‘রগ’ কেটে দিয়েছে। রগ কাটার ইস্যুতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠন থেকে। যদিও সংগঠন সেটি প্রত্যাহার করে তাদের তদন্তের মাধ্যমে। একই ইস্যুতে তাকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ করে। আবার সেই চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। সেখানে ইফ্ফাতকে ‘ও ভাই, আমার জামা’ বলে চিৎকার দিতে লক্ষ করা গেছে। এমনকি সেখানে তাকে প্রচুর পরিমাণের নির্যাতন করে এই মানুষ নামের অমানুষগুলা। তাদের হাত থেকে কোনো ভাবে রক্ষা পায় নি এই ছাত্রলীগ নেত্রী। ফলে সম্মান হারিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন এই শিক্ষার্থী। সেই ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে সংশয় প্রধানমন্ত্রীও চোখের জল ফেলেছেন।

আমরা সবাই জানি, প্রতিটি জিনিষের শুরু আছে এবং সমাধানও আছে। হয়তো এ ঘটনারও শেষ হবে। কিন্তু যেই সম্মানটুকু হারিয়েছে ইফ্ফাত সেটা ফিরে পাবেনা। তার উপর নির্যাতনকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে ছাত্রলীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে নিয়ে যারা ‘রগ’ কাটার বিষয় মিথ্যাচার জেনেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী। এসব পোস্ট ও মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়নি সংগঠনটি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কি ব্যর্থ ছাত্রলীগ? যদি ব্যর্থ না হয়ে থাকে শ্রীঘই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

একটি বিষয়ে প্রশংসা করা যায় সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দর। তারা এই মেয়েটি পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং “জুতার মালার পরিবর্তে ফুলের মালা দিয়েছেন”। এছাড়া সংগঠন থেকে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি এশা কারো উপর নির্যাতন করেনি বরং এশাকে নির্যাতন করা হয়েছে সেটা প্রমাণ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। ধন্যবাদ সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের।

এখন ছাত্রলীগের দায়িত্ব এশার মানসম্মান ক্ষুন্নকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে সোচ্চার হওয়া। যখন শাস্তির আওতায় আনতে সক্ষম হবে ঠিক তখনই বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাখ্যান করার সার্থকতা পাবে সংগঠনটি এবং ঠিক তখনই ছাত্রলীগ তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করি। তাই ছাত্রলীগ তাদের এই দায়িত্ব পালন করতে অগ্রসর হবে বলে বিশ্বাস করি।

লেখক : সহকারী বার্তা সম্পাদক
সিলেট প্রতিদিন টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ইমেইল : [email protected]

Facebook Comments

মো. মুন্না মিয়া :: ইফ্ফাত জাহান এশা। বাংলাদেশের সর্ব্বোচ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি। গত মঙ্গলবার রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের গুজবে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল ছাত্রলীগ ও ঢাবি প্রশাসন। যদিও ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি এশার বিরুদ্ধে গুজবের কোনো প্রমাণ পায়নি। ফলে তাকে স্বপদে বহাল রেখেছে সংগঠন। আর ঢাবি প্রশাসন এখনো তাদের পূর্বের ঘোষিত বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খুলেনি।

যদিও ঢাবি উপাচার্য গত শুক্রবার বেসরকারি একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে বলেন,‘এশার ছাত্রত্ব ফিরে পাবে বলে মন্তব্য করেছেন এবং এশাকে সম্মানিত করা হবে বলে জানিয়েছেন।’

“এখন দেখার ব্যাপার কতটুকু সম্মান পায় এই ছাত্রলীগ নেত্রী ইফ্ফাত।”

শুধু কি ছাত্রত্ব আর রাজনৈতিক পদ ফিরিয়ে দিলে কি ছাত্রলীগ আর ঢাবি প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হবে? মোটেই না। কেননা তার (এশা) উপর গুজব রটানো হয়েছে তিনি একই হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা আক্তারের ‘রগ’ কেটে দিয়েছে। রগ কাটার ইস্যুতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠন থেকে। যদিও সংগঠন সেটি প্রত্যাহার করে তাদের তদন্তের মাধ্যমে। একই ইস্যুতে তাকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ করে। আবার সেই চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। সেখানে ইফ্ফাতকে ‘ও ভাই, আমার জামা’ বলে চিৎকার দিতে লক্ষ করা গেছে। এমনকি সেখানে তাকে প্রচুর পরিমাণের নির্যাতন করে এই মানুষ নামের অমানুষগুলা। তাদের হাত থেকে কোনো ভাবে রক্ষা পায় নি এই ছাত্রলীগ নেত্রী। ফলে সম্মান হারিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন এই শিক্ষার্থী। সেই ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে সংশয় প্রধানমন্ত্রীও চোখের জল ফেলেছেন।

আমরা সবাই জানি, প্রতিটি জিনিষের শুরু আছে এবং সমাধানও আছে। হয়তো এ ঘটনারও শেষ হবে। কিন্তু যেই সম্মানটুকু হারিয়েছে ইফ্ফাত সেটা ফিরে পাবেনা। তার উপর নির্যাতনকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে ছাত্রলীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে নিয়ে যারা ‘রগ’ কাটার বিষয় মিথ্যাচার জেনেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী। এসব পোস্ট ও মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়নি সংগঠনটি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কি ব্যর্থ ছাত্রলীগ? যদি ব্যর্থ না হয়ে থাকে শ্রীঘই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

একটি বিষয়ে প্রশংসা করা যায় সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দর। তারা এই মেয়েটি পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং “জুতার মালার পরিবর্তে ফুলের মালা দিয়েছেন”। এছাড়া সংগঠন থেকে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি এশা কারো উপর নির্যাতন করেনি বরং এশাকে নির্যাতন করা হয়েছে সেটা প্রমাণ করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। ধন্যবাদ সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের।

এখন ছাত্রলীগের দায়িত্ব এশার মানসম্মান ক্ষুন্নকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে সোচ্চার হওয়া। যখন শাস্তির আওতায় আনতে সক্ষম হবে ঠিক তখনই বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাখ্যান করার সার্থকতা পাবে সংগঠনটি এবং ঠিক তখনই ছাত্রলীগ তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করি। তাই ছাত্রলীগ তাদের এই দায়িত্ব পালন করতে অগ্রসর হবে বলে বিশ্বাস করি।

লেখক : সহকারী বার্তা সম্পাদক
সিলেট প্রতিদিন টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ইমেইল : [email protected]

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর