আজঃ ১লা কার্তিক ১৪২৫ - ১৬ই অক্টোবর ২০১৮ - রাত ১১:৪৫

আ’লীগে মনোনয়ন লড়াই বিএনপিতে ছন্দপতন

Published: সেপ্টে ২৫, ২০১৮ - ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: জেলার চান্দিনা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-৭ আসনে শাসক দল আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই বর্তমান এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফের সঙ্গে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভিসি ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের।

দু’জনই দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে দু’জনই শতভাগ আশাবাদী। মাঠেও কাজ করছেন তারা। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সভা-সমাবেশে। এছাড়া প্রার্থী তালিকায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী নাজনীন আক্তারের নামও শোনা যাচ্ছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি ধানের শীষ নিয়ে এমপিও নির্বাচিত হন এ আসনে। কিন্তু ২০০৬ সালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠনের পর ড. রেদোয়ান পার্টির মহাসচিব হন। পরে চান্দিনায় বিএনপির হাল ধরেন খোরশেদ আলম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগের আলী আশরাফের কাছে হেরে যান। কিন্তু খোরশেদ আলমের মৃত্যু হলে বিএনপি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে।

এই ছন্দপতনে দলের মধ্যে নানা মতবিরোধ দেখা দেয়। তবে তার ছেলে আতিকুল আলম শাওনকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন স্থানীয়রা। আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুবদল নেতা সাখাওয়াত হোসেন ও সাবেক মেয়র আলমগীর খান। নানামুখী চাপের মধ্যেও তারা নানা কৌশলে মাঠে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগে মনোনয়ন লড়াইয়ে দলের দুই প্রার্থী ছাড়াও বিএনপিতে ছন্দপতনের এই সুযোগে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এবং দলের কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি লুৎফুর রেজা খোকন। আগামী নির্বাচনে তিনি মহাজোটের প্রার্থী। দলবল নিয়ে তিনি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গঠন করেছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

তার হাত ধরেই চান্দিনায় জাতীয় পার্টি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আজ শক্তিশালী। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে আসনটি যদি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে বিজয় নিশ্চিত। সাবেক এমপি ও এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদও মাঠে সক্রিয়। তিনিও মাঠে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, নব্বইয়ের পর ১৯৯১ সালে প্রথম নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হন এলডিপির বর্তমান মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আলী আশরাফ। ২০০১ সালের নির্বাচনে ড. রেদোয়ান আহমেদ ফের ধানের শীষ নিয়ে এমপি হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক আলী আশরাফ ৭৬ হাজার ভোট পেয়ে ফের এমপি হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রয়াত খোরশেদ আলম প্রায় ৭১ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হন। পরে ২০১৪ সালে ভোটার-বিহীন নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বার এমপি হন আলী আশরাফ।

এর আগেও আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জোরেশোরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিয়মিত সভা-সমাবেশসহ গণসংযোগ করছেন। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজও সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

বরেণ্য চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় তার আলাদা ইমেজ রয়েছে। জানতে চাইলে ডা. প্রাণ গোপাল যুগান্তরকে বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে আমি এলাকায় দলের হাল ধরেছি। চান্দিনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অবিরাম কাজ করছি। আমাকে প্রার্থী হিসেবে পেলে দলের নেতাকর্মীরা খুশি হবে। দলের মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় এমপি আলী আশরাফের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ৫০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। আমার সঙ্গে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে অনেকেই দলবদল করেছে; কিন্তু আমি একই অবস্থানে থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করছি। বিএনপি-জামায়াতসহ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে লড়াই করে বিগত দিনে দলের বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কোনো দিন কারও সঙ্গে প্রতারণা করিনি। দলের জন্য আমার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তাই দল আগামী নির্বাচনে আমাকে অবশ্যই মনোনয়ন দেবে।

মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রেজা খোকন। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি পুরোদমে শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচার কাজ। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি এ আসন থেকে এমপি নির্বাচন করেছিলেন। দলের নেতাকর্মীরা জানান, তার নেতৃত্বে চান্দিনায় জাতীয় পার্টি এখন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। তিনি নিয়মিত সভা-সেমিনার, ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন।

বিশিষ্ট এই শিক্ষানুরাগী মাইজখার মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, মুরাদনগর হাফেজিয়া মাদ্রাসা, মমিন-বাড়ী শাহী ঈদগাহসহ এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। জানতে চাইলে লুৎফুর রেজা যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের বিভেদ আর বিএনপির ছন্দপতন আমাকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। পাড়া-মহল্লায় প্রচার কমিটি করে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আসনটি আমি জোটকে উপহার দিতে পারব।

অপরদিকে এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ মনোনয়ন-প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি ও ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি হন রেদোয়ান আহমেদ। ২০০১ সালে বিএনপি’র মনোনয়নে এমপি হয়ে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার হাত ধরে চান্দিনায় শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুতায়নসহ সবক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন আমিই পাব বলে আশা করছি।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: জেলার চান্দিনা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লা-৭ আসনে শাসক দল আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াই বর্তমান এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফের সঙ্গে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভিসি ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের।

দু’জনই দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে দু’জনই শতভাগ আশাবাদী। মাঠেও কাজ করছেন তারা। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সভা-সমাবেশে। এছাড়া প্রার্থী তালিকায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী নাজনীন আক্তারের নামও শোনা যাচ্ছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি ধানের শীষ নিয়ে এমপিও নির্বাচিত হন এ আসনে। কিন্তু ২০০৬ সালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠনের পর ড. রেদোয়ান পার্টির মহাসচিব হন। পরে চান্দিনায় বিএনপির হাল ধরেন খোরশেদ আলম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগের আলী আশরাফের কাছে হেরে যান। কিন্তু খোরশেদ আলমের মৃত্যু হলে বিএনপি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে।

এই ছন্দপতনে দলের মধ্যে নানা মতবিরোধ দেখা দেয়। তবে তার ছেলে আতিকুল আলম শাওনকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন স্থানীয়রা। আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুবদল নেতা সাখাওয়াত হোসেন ও সাবেক মেয়র আলমগীর খান। নানামুখী চাপের মধ্যেও তারা নানা কৌশলে মাঠে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগে মনোনয়ন লড়াইয়ে দলের দুই প্রার্থী ছাড়াও বিএনপিতে ছন্দপতনের এই সুযোগে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এবং দলের কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি লুৎফুর রেজা খোকন। আগামী নির্বাচনে তিনি মহাজোটের প্রার্থী। দলবল নিয়ে তিনি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গঠন করেছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

তার হাত ধরেই চান্দিনায় জাতীয় পার্টি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আজ শক্তিশালী। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে আসনটি যদি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে বিজয় নিশ্চিত। সাবেক এমপি ও এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদও মাঠে সক্রিয়। তিনিও মাঠে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, নব্বইয়ের পর ১৯৯১ সালে প্রথম নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হন এলডিপির বর্তমান মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আলী আশরাফ। ২০০১ সালের নির্বাচনে ড. রেদোয়ান আহমেদ ফের ধানের শীষ নিয়ে এমপি হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক আলী আশরাফ ৭৬ হাজার ভোট পেয়ে ফের এমপি হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রয়াত খোরশেদ আলম প্রায় ৭১ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হন। পরে ২০১৪ সালে ভোটার-বিহীন নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বার এমপি হন আলী আশরাফ।

এর আগেও আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জোরেশোরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিয়মিত সভা-সমাবেশসহ গণসংযোগ করছেন। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজও সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

বরেণ্য চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় তার আলাদা ইমেজ রয়েছে। জানতে চাইলে ডা. প্রাণ গোপাল যুগান্তরকে বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে আমি এলাকায় দলের হাল ধরেছি। চান্দিনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অবিরাম কাজ করছি। আমাকে প্রার্থী হিসেবে পেলে দলের নেতাকর্মীরা খুশি হবে। দলের মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় এমপি আলী আশরাফের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ৫০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। আমার সঙ্গে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে অনেকেই দলবদল করেছে; কিন্তু আমি একই অবস্থানে থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করছি। বিএনপি-জামায়াতসহ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে লড়াই করে বিগত দিনে দলের বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কোনো দিন কারও সঙ্গে প্রতারণা করিনি। দলের জন্য আমার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তাই দল আগামী নির্বাচনে আমাকে অবশ্যই মনোনয়ন দেবে।

মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রেজা খোকন। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি পুরোদমে শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচার কাজ। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি এ আসন থেকে এমপি নির্বাচন করেছিলেন। দলের নেতাকর্মীরা জানান, তার নেতৃত্বে চান্দিনায় জাতীয় পার্টি এখন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। তিনি নিয়মিত সভা-সেমিনার, ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন।

বিশিষ্ট এই শিক্ষানুরাগী মাইজখার মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, মুরাদনগর হাফেজিয়া মাদ্রাসা, মমিন-বাড়ী শাহী ঈদগাহসহ এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। জানতে চাইলে লুৎফুর রেজা যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের বিভেদ আর বিএনপির ছন্দপতন আমাকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। পাড়া-মহল্লায় প্রচার কমিটি করে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আসনটি আমি জোটকে উপহার দিতে পারব।

অপরদিকে এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ মনোনয়ন-প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি ও ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি হন রেদোয়ান আহমেদ। ২০০১ সালে বিএনপি’র মনোনয়নে এমপি হয়ে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার হাত ধরে চান্দিনায় শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুতায়নসহ সবক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন আমিই পাব বলে আশা করছি।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর