আজঃ ১লা কার্তিক ১৪২৫ - ১৬ই অক্টোবর ২০১৮ - রাত ১২:২৪

আ’লীগে কোন্দল : বিএনপিতে আতঙ্ক

Published: অক্টো ০৪, ২০১৮ - ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন ডেস্ক :: একাদশ সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ছোট ছোট দলগুলোও মাঠে নেমেছে। এ আসনে আওয়ামী লীগে প্রার্থী জট থাকলেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম উঠে এসেছে।

ফেনী-৩ আসন দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ’৭০-এর নির্বাচনের পর হতে অদ্যাবধি চারবার আওয়ামী লীগ, একবার জাতীয় পার্টি ও তিনবার বিএনপি বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। সোনাগাজীর ৯টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং দাগনভূঞা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে ফেনী-৩ আসন গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৮ জন।

এর মধ্যে সোনাগাজীতে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৬ ও দাগনভূঞায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২ জন ভোটার রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবুল বাশারের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় পান।

তবে স্বাধীনতার ৪২ বছরে দাগনভূঞা থেকে এ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি। তাই দাগনভূঞার জনপদবাসী এ পর্যন্ত অবহেলার শিকার হয়ে আসছে। ’৯৬ সালের নির্বাচনে দাগনভূঞার ফেরদৌস আহমদ কোরেশী বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে উপনির্বাচনে জয়নাল হাজারীর সঙ্গে পরাজিত হন।

বর্তমানে রাজনীতির ময়দানে ফেনীর ৩টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চরম গ্রুপিং বিরাজ করায় এ আসনেও এর প্রভাব পড়েছে। আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীর আত্মগোপনের পর দৃশ্যত আওয়ামী লীগে কোন্দল চরম আকার ধারণ করে।

যারা হাজারীর নির্যাতন ও রোষের শিকার এবং হাজারীর কর্মকাণ্ড বিদ্বেষী তাদের এক গ্রুপ এবং যারা হাজারীর আশীর্বাদপুষ্ট ছিল তাদের এক গ্রুপ। ফেনীর রাজনীতিতে দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রীতিমতো মল্লযুদ্ধ দৃশ্যমান হয়েছে। বর্তমানেও সে বিরোধ প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে চলছে।

২০১৪ সালে এ আসনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি প্রেসিডেন্টের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ারকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহর পক্ষে সক্রিয় থেকে জিতিয়ে নেন।

পরবর্তীতে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাজী রহিম উল্যাহর দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে সাপে নেউলে সম্পর্ক বিরাজ করে। এমপি রহিম উল্যাহর অভিযোগ সরকারদলীয় অশুভ শক্তি তার কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা না নিতে পেরে পায়ে পা রেখে ঝগড়া করছে।

হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় প্রচার-প্রচারণায় আছেন আমেরিকা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার, জেলা যুবলীগ সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি রহিম উল্যাহ ও আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী।

এছাড়াও শোনা যাচ্ছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পরিচিত মুখ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন হুমায়ুন যুগান্তরকে জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ফেনীকে সন্ত্রাসমুক্ত করেছি। বিগত দুইবার মনোনয়ন চেয়েছি। ফেনীর অবহেলিত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম ও আছি। এবারও মনোনয়ন চাইব। নেত্রী ও দল মনোনয়ন দিলে নিশ্চিত এ আসন নেত্রীকে উপহার দেব।

বিএনপির এ আসনসহ ফেনীতে সাংগঠনিক অবস্থা লেজেগোবরে। হামলা মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের অধিকাংশ আত্মগোপনে আছে। নেতাদের প্রতি তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই। এ আসনে দৃশ্যত বিএনপির কোনো প্রার্থী মাঠে নেই। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ধারণা আগাম প্রচারে নামলে হামলা মামলার পরিমাণ বেড়ে যাবে।

অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হলেও নেতাদের নাগাল বা সাহায্য পায়নি বলে মনের ক্ষত জাহির করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ করতে দ্বিধা করছে না।

তবুও মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দিন, ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ জনি।

মিন্টুর সহোদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন যুগান্তরকে জানান, দলের সিদ্ধান্ত পালনে তারা বদ্ধপরিকর। মিন্টুর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, নেত্রীর ইচ্ছার ওপর বা গ্রিন সিগন্যাল পেলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নচেৎ নয়। দেশ-বিদেশ পরিচিতি মুখ ছাড়াও দাগনভূঞার প্রত্যেক সেক্টরে তার যে পরিচিতি রয়েছে তাতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া সর্বজন স্বীকৃত মানুষ মিন্টু।

আদৌ তিনি নির্বাচন করবেন কিনা তা প্রকাশ করছেন না তিনি। হয়তো এমনও হতে পারে মিন্টু পরিবারের সদস্য বা মোশাররফ পরিবারের সদস্য বিএনপির টিকিট নিয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারেন।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এ আসনে দলের প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার ভোটযুদ্ধে নামার টিকেট নিশ্চিত করেছেন। ২০১৪ সালে এ আসনের মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার প্রার্থী ছিলেন। মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার মাঠে আছেন আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণায় বলে দাবি করেন।

রিন্টু মনে করেন মহাজোট থাকলে এবারও তিনি মনোনয়ন পাওয়ার হকদার। জাসদ থেকে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ভোট করবেন বলে দলীয় ফোরাম আশাবাদ ব্যক্ত করে। পরিস্থিতি ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে জামায়াতে ইসলামী থেকে আমীর মকবুল আহমদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। না হলে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ভোট করবেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছে।

যদি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয় তাহলে রাজনৈতিক মাঠ পর্যালোচনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে লড়াই হবে বলা যায়। চূড়ান্ত প্রার্থী সম্পর্কিত নাটকের যবনিকাপাতে কে হিরো হবেন তা নির্ভর করবে আগামী দিনের আন্দোলনে সফল ভূমিকার ওপর, তা উভয় দলের নেতাকর্মীদের নিশ্চিত ধারণা।

Facebook Comments

প্রতিদিন ডেস্ক :: একাদশ সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ছোট ছোট দলগুলোও মাঠে নেমেছে। এ আসনে আওয়ামী লীগে প্রার্থী জট থাকলেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম উঠে এসেছে।

ফেনী-৩ আসন দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ’৭০-এর নির্বাচনের পর হতে অদ্যাবধি চারবার আওয়ামী লীগ, একবার জাতীয় পার্টি ও তিনবার বিএনপি বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। সোনাগাজীর ৯টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং দাগনভূঞা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে ফেনী-৩ আসন গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৮ জন।

এর মধ্যে সোনাগাজীতে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৬ ও দাগনভূঞায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২ জন ভোটার রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবুল বাশারের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় পান।

তবে স্বাধীনতার ৪২ বছরে দাগনভূঞা থেকে এ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি। তাই দাগনভূঞার জনপদবাসী এ পর্যন্ত অবহেলার শিকার হয়ে আসছে। ’৯৬ সালের নির্বাচনে দাগনভূঞার ফেরদৌস আহমদ কোরেশী বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে উপনির্বাচনে জয়নাল হাজারীর সঙ্গে পরাজিত হন।

বর্তমানে রাজনীতির ময়দানে ফেনীর ৩টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চরম গ্রুপিং বিরাজ করায় এ আসনেও এর প্রভাব পড়েছে। আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীর আত্মগোপনের পর দৃশ্যত আওয়ামী লীগে কোন্দল চরম আকার ধারণ করে।

যারা হাজারীর নির্যাতন ও রোষের শিকার এবং হাজারীর কর্মকাণ্ড বিদ্বেষী তাদের এক গ্রুপ এবং যারা হাজারীর আশীর্বাদপুষ্ট ছিল তাদের এক গ্রুপ। ফেনীর রাজনীতিতে দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রীতিমতো মল্লযুদ্ধ দৃশ্যমান হয়েছে। বর্তমানেও সে বিরোধ প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে চলছে।

২০১৪ সালে এ আসনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি প্রেসিডেন্টের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ারকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহর পক্ষে সক্রিয় থেকে জিতিয়ে নেন।

পরবর্তীতে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাজী রহিম উল্যাহর দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে সাপে নেউলে সম্পর্ক বিরাজ করে। এমপি রহিম উল্যাহর অভিযোগ সরকারদলীয় অশুভ শক্তি তার কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা না নিতে পেরে পায়ে পা রেখে ঝগড়া করছে।

হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় প্রচার-প্রচারণায় আছেন আমেরিকা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার, জেলা যুবলীগ সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি রহিম উল্যাহ ও আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী।

এছাড়াও শোনা যাচ্ছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পরিচিত মুখ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন হুমায়ুন যুগান্তরকে জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ফেনীকে সন্ত্রাসমুক্ত করেছি। বিগত দুইবার মনোনয়ন চেয়েছি। ফেনীর অবহেলিত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম ও আছি। এবারও মনোনয়ন চাইব। নেত্রী ও দল মনোনয়ন দিলে নিশ্চিত এ আসন নেত্রীকে উপহার দেব।

বিএনপির এ আসনসহ ফেনীতে সাংগঠনিক অবস্থা লেজেগোবরে। হামলা মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের অধিকাংশ আত্মগোপনে আছে। নেতাদের প্রতি তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই। এ আসনে দৃশ্যত বিএনপির কোনো প্রার্থী মাঠে নেই। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ধারণা আগাম প্রচারে নামলে হামলা মামলার পরিমাণ বেড়ে যাবে।

অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হলেও নেতাদের নাগাল বা সাহায্য পায়নি বলে মনের ক্ষত জাহির করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ করতে দ্বিধা করছে না।

তবুও মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দিন, ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ জনি।

মিন্টুর সহোদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন যুগান্তরকে জানান, দলের সিদ্ধান্ত পালনে তারা বদ্ধপরিকর। মিন্টুর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, নেত্রীর ইচ্ছার ওপর বা গ্রিন সিগন্যাল পেলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নচেৎ নয়। দেশ-বিদেশ পরিচিতি মুখ ছাড়াও দাগনভূঞার প্রত্যেক সেক্টরে তার যে পরিচিতি রয়েছে তাতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া সর্বজন স্বীকৃত মানুষ মিন্টু।

আদৌ তিনি নির্বাচন করবেন কিনা তা প্রকাশ করছেন না তিনি। হয়তো এমনও হতে পারে মিন্টু পরিবারের সদস্য বা মোশাররফ পরিবারের সদস্য বিএনপির টিকিট নিয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারেন।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এ আসনে দলের প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার ভোটযুদ্ধে নামার টিকেট নিশ্চিত করেছেন। ২০১৪ সালে এ আসনের মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার প্রার্থী ছিলেন। মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার মাঠে আছেন আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণায় বলে দাবি করেন।

রিন্টু মনে করেন মহাজোট থাকলে এবারও তিনি মনোনয়ন পাওয়ার হকদার। জাসদ থেকে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ভোট করবেন বলে দলীয় ফোরাম আশাবাদ ব্যক্ত করে। পরিস্থিতি ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে জামায়াতে ইসলামী থেকে আমীর মকবুল আহমদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। না হলে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ভোট করবেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছে।

যদি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয় তাহলে রাজনৈতিক মাঠ পর্যালোচনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে লড়াই হবে বলা যায়। চূড়ান্ত প্রার্থী সম্পর্কিত নাটকের যবনিকাপাতে কে হিরো হবেন তা নির্ভর করবে আগামী দিনের আন্দোলনে সফল ভূমিকার ওপর, তা উভয় দলের নেতাকর্মীদের নিশ্চিত ধারণা।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর