আজঃ ২রা কার্তিক ১৪২৫ - ১৭ই অক্টোবর ২০১৮ - সন্ধ্যা ৭:০২

আমি ডরাইয়া গেটির ভিতরে গেছিগি!

Published: অক্টো ১৩, ২০১৮ - ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি::প্রত্যক্ষ দর্শী প্রবাসী ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া বেগম বলেন, গাড়ি থেকে নাইম্মা (নেমে) তিনি (এমপি) ট্রাক ড্রাইভারের থুকাইন (খোঁজ করেন)। ট্রাকড্রাইভার আইতেঅউ (এগিয়ে যেতেই) তাইন (এমপি) তারে (ড্রাইভার) জাত-জাতাইয়া (জোরে জোরে) কয়েকটা চর মারছইন (মারেন)। আমি ডরাইয়া গেটির ভিতরে গেছিগি।

বিশ্বনাথে এক ট্রাইভারকে স্থানীয় এমপি মারধর করার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে ঐ মহিলা সিলেটেরআঞ্চলিক ভাষায় এসব কথা বলেন।

এ দিকে ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করার প্রতিবাদে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে ‘স্থানীয়
এমপি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া’র বিরুদ্ধে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঝাড়– মিছিল করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বিশ্বনাথ উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ঐক্যজোটের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পরিবহন শ্রমিকদের ঝাড়– মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে স্থানীয় বাসিয়া সেতুর উপর সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ঐক্যজোটের সভাপতি ময়না মিয়ার সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা অটোরিক্সা-অটোটেম্পু চালক শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব। এসময় এমপির হাতে মারধর খাওয়া ট্রাক ড্রাইভার কামরান হোসেন উত্তোজিত শ্রমিকদের সাথে মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত
ছিলেন। সভা থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এঘটনার কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ-আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের হুমকি দিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

হহগরান আহমদ বলেন, আমি দিলু মিয়ার সাথে চুক্তি করে ট্রাক দিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে প্রবাসী ইসলাম উদ্দিনের বাসার কাজের জন্য বালু নিয়ে আসি। সড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে বালু আনলোড করার সময় তিনি (এমপি) তার প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে আসেন। ট্রাকের কারণে প্রাইভেট কারটি সামনের দিকে যাচ্ছিলনা।
তাই আমি ট্রাকটি আরো সাইড লাগিয়ে কারের যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেই।

একজন ব্যক্তি (এমপি) প্রাইভেট কার থেকে নেমে এসে আমার খোঁজ করেন। আমি এগিয়ে যেতে আমাকে বলেন এই রাস্তা দিয়ে এত বড় ট্রাক নিয়ে কেন এসেছি। আমি তাকে জানাই আমি এই এলাকা চিনি না, যারা আমাকে নিয়ে এসেছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। সাথে সাথে তিনি (এমপি) আমাকে কয়েকটা চড়-থাপ্পর মারেন। আমি মার খেয়ে তাকে বলি জীবনে আর কখনও আসব না। তারপরও তিনি আরেক দফা আমাকে মারেন। যাওয়ার সময় পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গেছেন।

প্রত্যক্ষ দর্শী স্থানীয় দিলু মিয়া জানান, মহিলার বাড়িতে পুরুষ মানুষ না (স্বামী বিদেশে) থাকায় তাদের সাথে চুক্তি করে আমি বালু আনি। কল্পনাও করিনি একজন এমপি এভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে একজন ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করবেন।

স্থানীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, ৩ টনের চলাচলের উপযোগী সড়কে যদি ৬ টনের গাড়ি চলাচল করে, তাহলে সড়ক ব্লক হবে ও ভাঙ্গবে। সড়কগুলো রক্ষানাবেক্ষণ করা সকলের দায়িত্ব। আমি প্রতিবাদ করায়ও অপরাধী, আবার সড়ক ভাঙ্গলেও অপরাধী। উন্নয়নের রক্ষনাবেক্ষন শুধু আমার নয়, বিশ্বনাথের সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্ব।

Facebook Comments

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি::প্রত্যক্ষ দর্শী প্রবাসী ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া বেগম বলেন, গাড়ি থেকে নাইম্মা (নেমে) তিনি (এমপি) ট্রাক ড্রাইভারের থুকাইন (খোঁজ করেন)। ট্রাকড্রাইভার আইতেঅউ (এগিয়ে যেতেই) তাইন (এমপি) তারে (ড্রাইভার) জাত-জাতাইয়া (জোরে জোরে) কয়েকটা চর মারছইন (মারেন)। আমি ডরাইয়া গেটির ভিতরে গেছিগি।

বিশ্বনাথে এক ট্রাইভারকে স্থানীয় এমপি মারধর করার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে ঐ মহিলা সিলেটেরআঞ্চলিক ভাষায় এসব কথা বলেন।

এ দিকে ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করার প্রতিবাদে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে ‘স্থানীয়
এমপি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া’র বিরুদ্ধে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঝাড়– মিছিল করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বিশ্বনাথ উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ঐক্যজোটের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পরিবহন শ্রমিকদের ঝাড়– মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে স্থানীয় বাসিয়া সেতুর উপর সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ঐক্যজোটের সভাপতি ময়না মিয়ার সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা অটোরিক্সা-অটোটেম্পু চালক শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব। এসময় এমপির হাতে মারধর খাওয়া ট্রাক ড্রাইভার কামরান হোসেন উত্তোজিত শ্রমিকদের সাথে মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত
ছিলেন। সভা থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এঘটনার কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ-আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের হুমকি দিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

হহগরান আহমদ বলেন, আমি দিলু মিয়ার সাথে চুক্তি করে ট্রাক দিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে প্রবাসী ইসলাম উদ্দিনের বাসার কাজের জন্য বালু নিয়ে আসি। সড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে বালু আনলোড করার সময় তিনি (এমপি) তার প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে আসেন। ট্রাকের কারণে প্রাইভেট কারটি সামনের দিকে যাচ্ছিলনা।
তাই আমি ট্রাকটি আরো সাইড লাগিয়ে কারের যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেই।

একজন ব্যক্তি (এমপি) প্রাইভেট কার থেকে নেমে এসে আমার খোঁজ করেন। আমি এগিয়ে যেতে আমাকে বলেন এই রাস্তা দিয়ে এত বড় ট্রাক নিয়ে কেন এসেছি। আমি তাকে জানাই আমি এই এলাকা চিনি না, যারা আমাকে নিয়ে এসেছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। সাথে সাথে তিনি (এমপি) আমাকে কয়েকটা চড়-থাপ্পর মারেন। আমি মার খেয়ে তাকে বলি জীবনে আর কখনও আসব না। তারপরও তিনি আরেক দফা আমাকে মারেন। যাওয়ার সময় পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গেছেন।

প্রত্যক্ষ দর্শী স্থানীয় দিলু মিয়া জানান, মহিলার বাড়িতে পুরুষ মানুষ না (স্বামী বিদেশে) থাকায় তাদের সাথে চুক্তি করে আমি বালু আনি। কল্পনাও করিনি একজন এমপি এভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে একজন ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করবেন।

স্থানীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, ৩ টনের চলাচলের উপযোগী সড়কে যদি ৬ টনের গাড়ি চলাচল করে, তাহলে সড়ক ব্লক হবে ও ভাঙ্গবে। সড়কগুলো রক্ষানাবেক্ষণ করা সকলের দায়িত্ব। আমি প্রতিবাদ করায়ও অপরাধী, আবার সড়ক ভাঙ্গলেও অপরাধী। উন্নয়নের রক্ষনাবেক্ষন শুধু আমার নয়, বিশ্বনাথের সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্ব।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর