আজঃ ৩রা কার্তিক ১৪২৫ - ১৮ই অক্টোবর ২০১৮ - সকাল ১০:১২

আওয়ামী লীগের যত চ্যালেঞ্জ

Published: আগ ১০, ২০১৮ - ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

সিলেট প্রতিদিন::একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ক্ষমতাসীনদের। ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেমন দৃশ্যমান হয়েছে, তেমনি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- দলীয় কোন্দল নিরসন, সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারবিরোধীদের অপপ্রচারের যৌক্তিক জবাব, জোটসহ দলের জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই এবং বিএনপিসহ সব দলকে নির্বাচনমুখী করা।

এগুলো সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করে সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে ইসিকে সহায়তা করাই এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এবারও তারা ক্ষমতায় গেলে সেটি দেশের ভেতর ও বাইরে প্রশংসিত হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে ১৫টি সাংগঠনিক টিম তৃণমূলে এবং ৮টি টিম বিভাগীয় পর্যায়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে নানা তৎপরতা। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান বৃহস্পতিবার বলেন, আগামী নির্বাচন সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের জন্যও।

সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার রোধ করতে এটি এখনই ফিল্টারিং করতে হবে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই জানিয়ে বলেন, তবে দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা আছে। এটা থাকবেই। তবে প্রার্থী যেই হোক, সবাই নৌকার পক্ষে একযোগে কাজ করবে। বিএনপিকে ভোটে আনা নয়, তাদের ভোটে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ভোট অনেক প্রতিযোগিতামূলক হবে। চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্বাচনে জয়লাভ করে। আগামীতেও জয়লাভ করবে।

বিএনপিকে আস্থায় নিয়ে নির্বাচনে আনা আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান। তিনি বলেন, এটি কীভাবে করবে সেটি আওয়ামী লীগের ব্যাপার। যদি তা না হয়, তবে আগামী নির্বাচন হবে ২০১৪ সালের মতো। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চান না।

বিভিন্ন বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচারে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমন অপপ্রচার নির্বাচনের আগে বেশি বেশি চলতে পারে। এ জন্য এগুলো ফিল্টারিং করতে হবে।

দেশজুড়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় দলের মধ্যে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের বিরোধ মাঠপর্যায়ে তীব্র। শেখ হাসিনাসহ দলের নেতারাও এটি নিয়ে বিব্রত। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকগুলোতেও দলের কোন্দল নিরসন এবং জরিপে এগিয়ে থাকা গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তৃণমূল নেতাদের নিয়ে পরপর তিনটি বিশেষ বর্ধিত সভায় স্থানীয় নেতারা ব্যাপক সমালোচনা করেন এমপি-মন্ত্রীদের। এলাকায় নিজ বলয় সৃষ্টিকারী ও দলের বাইরে গিয়ে কাজ করা, দলের সুনাম ক্ষুণ্ণকারী কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা।

একদিকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই, অন্যদিকে এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের দলীয় কোন্দল নিরসন শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সামনে বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ভোটের মাঠে জোট বা মহাজোট নাকি এককভাবে হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। ইতিমধ্যে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি ৭০টি, ১৪ দলের শরিকরা শতাধিক, জোটে ভিড়তে চাওয়া অন্যান্য দল কমপক্ষে ৫০টি আসন দাবি করেছে ক্ষমতাসীনদের কাছে। এ ছাড়া ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানী হাইব্রিড ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের অনেকেরই অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে দলের মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে। এগুলোও সমাধান করতে হবে নির্বাচনের আগে।

এদিকে মামলার জালে আটকা বিএনপির এখনও দাবি- শেখ হাসিনার অধীনে নয়; নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি। আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন থেকে সরে থাকা বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে যা যা করার দরকার করতে হবে। আর নিজেদের অবিচল অবস্থানে থেকে এসব দাবি মানা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সবার অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার ইচ্ছা করলেই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন একটি ক্রুসিয়াল মুহূর্ত আওয়ামী লীগের জন্য। এই নির্বাচনে ছাড় দেয়ার মানসিকতা থেকে আওয়ামী লীগকে সরে আসতে হবে। যত প্রভাবশালীই নেতা, এমপি-মন্ত্রী হোক ছাড় দেয়া যাবে না। আবার একেবারেই আনাড়ি কাউকেও মনোনয়ন দেয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় প্রাথী নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে আওয়ামী লীগকে। ভোটারদের মন জয় হবে বড় চ্যালেঞ্জ ক্ষমতাসীনদের জন্য। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল তো আছেই। সেটি নিরসনে কঠোর হওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ভয় না জয় করতে হবে। নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলে অপপ্রচার কম হবে।

তবে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার বিষয়টি আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখন নির্বাচনে না আসার বিকল্প বিএনপির নেই। নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থানের দিকেও জোর দেন তিনি। নিজেদের শক্তি ও আত্মপ্রত্যয়ী ভূমিকা পালনের কথা বলেন তিনি। কূটনীতিকদের ছাড় দিয়ে কথা বলা নয় বরং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে উপস্থাপনও আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হবে দেশের প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার। নবম সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি তরুণ ভোটারের হাতেই আগামী দিনের ক্ষমতার চাবি বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন নবম সংসদ থেকে এ পর্যন্ত যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব নির্বাচনে মূল ভূমিকা পালন করবেন। তরুণরা আগামীর বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান, সেই অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

এই ভোটারদের অধিকাংশই ছাত্র। যারা কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আগামী নির্বাচনে তরুণদের এই ভোট টানতে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে আওয়ামী লীগকে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে আওয়ামী লীগকে এই তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আস্থায় নিতে হবে। না পারলে ক্ষমতাসীনদের জন্য সুখকর হবে না।

Facebook Comments

সিলেট প্রতিদিন::একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ক্ষমতাসীনদের। ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেমন দৃশ্যমান হয়েছে, তেমনি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- দলীয় কোন্দল নিরসন, সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারবিরোধীদের অপপ্রচারের যৌক্তিক জবাব, জোটসহ দলের জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই এবং বিএনপিসহ সব দলকে নির্বাচনমুখী করা।

এগুলো সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করে সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে ইসিকে সহায়তা করাই এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এবারও তারা ক্ষমতায় গেলে সেটি দেশের ভেতর ও বাইরে প্রশংসিত হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে ১৫টি সাংগঠনিক টিম তৃণমূলে এবং ৮টি টিম বিভাগীয় পর্যায়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে নানা তৎপরতা। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান বৃহস্পতিবার বলেন, আগামী নির্বাচন সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের জন্যও।

সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার রোধ করতে এটি এখনই ফিল্টারিং করতে হবে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই জানিয়ে বলেন, তবে দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা আছে। এটা থাকবেই। তবে প্রার্থী যেই হোক, সবাই নৌকার পক্ষে একযোগে কাজ করবে। বিএনপিকে ভোটে আনা নয়, তাদের ভোটে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ভোট অনেক প্রতিযোগিতামূলক হবে। চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্বাচনে জয়লাভ করে। আগামীতেও জয়লাভ করবে।

বিএনপিকে আস্থায় নিয়ে নির্বাচনে আনা আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান। তিনি বলেন, এটি কীভাবে করবে সেটি আওয়ামী লীগের ব্যাপার। যদি তা না হয়, তবে আগামী নির্বাচন হবে ২০১৪ সালের মতো। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চান না।

বিভিন্ন বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচারে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমন অপপ্রচার নির্বাচনের আগে বেশি বেশি চলতে পারে। এ জন্য এগুলো ফিল্টারিং করতে হবে।

দেশজুড়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় দলের মধ্যে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের বিরোধ মাঠপর্যায়ে তীব্র। শেখ হাসিনাসহ দলের নেতারাও এটি নিয়ে বিব্রত। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকগুলোতেও দলের কোন্দল নিরসন এবং জরিপে এগিয়ে থাকা গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তৃণমূল নেতাদের নিয়ে পরপর তিনটি বিশেষ বর্ধিত সভায় স্থানীয় নেতারা ব্যাপক সমালোচনা করেন এমপি-মন্ত্রীদের। এলাকায় নিজ বলয় সৃষ্টিকারী ও দলের বাইরে গিয়ে কাজ করা, দলের সুনাম ক্ষুণ্ণকারী কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা।

একদিকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই, অন্যদিকে এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের দলীয় কোন্দল নিরসন শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সামনে বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ভোটের মাঠে জোট বা মহাজোট নাকি এককভাবে হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। ইতিমধ্যে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি ৭০টি, ১৪ দলের শরিকরা শতাধিক, জোটে ভিড়তে চাওয়া অন্যান্য দল কমপক্ষে ৫০টি আসন দাবি করেছে ক্ষমতাসীনদের কাছে। এ ছাড়া ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানী হাইব্রিড ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের অনেকেরই অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে দলের মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে। এগুলোও সমাধান করতে হবে নির্বাচনের আগে।

এদিকে মামলার জালে আটকা বিএনপির এখনও দাবি- শেখ হাসিনার অধীনে নয়; নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি। আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন থেকে সরে থাকা বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে যা যা করার দরকার করতে হবে। আর নিজেদের অবিচল অবস্থানে থেকে এসব দাবি মানা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সবার অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার ইচ্ছা করলেই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন একটি ক্রুসিয়াল মুহূর্ত আওয়ামী লীগের জন্য। এই নির্বাচনে ছাড় দেয়ার মানসিকতা থেকে আওয়ামী লীগকে সরে আসতে হবে। যত প্রভাবশালীই নেতা, এমপি-মন্ত্রী হোক ছাড় দেয়া যাবে না। আবার একেবারেই আনাড়ি কাউকেও মনোনয়ন দেয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় প্রাথী নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে আওয়ামী লীগকে। ভোটারদের মন জয় হবে বড় চ্যালেঞ্জ ক্ষমতাসীনদের জন্য। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল তো আছেই। সেটি নিরসনে কঠোর হওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ভয় না জয় করতে হবে। নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলে অপপ্রচার কম হবে।

তবে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার বিষয়টি আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখন নির্বাচনে না আসার বিকল্প বিএনপির নেই। নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থানের দিকেও জোর দেন তিনি। নিজেদের শক্তি ও আত্মপ্রত্যয়ী ভূমিকা পালনের কথা বলেন তিনি। কূটনীতিকদের ছাড় দিয়ে কথা বলা নয় বরং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে উপস্থাপনও আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হবে দেশের প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার। নবম সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি তরুণ ভোটারের হাতেই আগামী দিনের ক্ষমতার চাবি বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন নবম সংসদ থেকে এ পর্যন্ত যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব নির্বাচনে মূল ভূমিকা পালন করবেন। তরুণরা আগামীর বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান, সেই অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

এই ভোটারদের অধিকাংশই ছাত্র। যারা কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আগামী নির্বাচনে তরুণদের এই ভোট টানতে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে আওয়ামী লীগকে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে আওয়ামী লীগকে এই তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আস্থায় নিতে হবে। না পারলে ক্ষমতাসীনদের জন্য সুখকর হবে না।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর