আজঃ ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ - ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ - রাত ৪:৫১

অতীত ভুলে নবযাত্রায়

Published: সেপ্টে ০৪, ২০১৮ - ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

ক্রীড়া ডেস্ক :: ১০ অক্টোবর ২০১৬ সাল। থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম যেন শোকের সাগর। মামুনুল ইসলাম-সাখাওয়াত হোসেন রনিদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছিল থিম্পুর আকাশ। এএফসি এশিয়ান কাপ প্লে-অফে ভুটানের কাছে ৩-১ গোলের হারে বাংলাদেশের ফুটবলে নেমে আসে অন্ধকার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে চলে যায়। ওই ম্যাচের পর আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৮ মাস।

গত মার্চে লাওসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন মামুনুল ইসলামরা। ভুটানের কাছে হারের কষ্ট আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন আশরাফুল ইসলাম রানারা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে আজ আবারও সেই ভুটান। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টায় চেনচো গিয়েলেটশেনের দলের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। গতকাল বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত ম্যাচ-পূর্ববতী সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরেই এসেছে ভুটান ম্যাচের কথা। নতুন কোচ জেমি ডে এবং ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী অতীতের তিক্ততা ভুলে যেতে যান। সাফ দিয়ে নতুন শুরুর প্রত্যাশা লাল-সবুজের দলটির।

কাগজে-কলমে আজ এগিয়ে ভুটানই। র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ১৮৩ নম্বরে, বাংলাদেশ ১৯৪তম। কিন্তু ফুটবলে তো র‌্যাংকিং বলে কিছু নেই। তা এশিয়ান গেমসে প্রমাণ করেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে উঠেছিল জেমি ডের দল। সে দলটি ছিল অনূর্ধ্ব-২৩। নীলফামারীতে গত ২৯ আগস্ট শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সিনিয়রদের পরখ করতে গিয়ে পার্থক্য বুঝে গেছেন জেমি।

লংকানদের কাছে ১-০ গোলে হারের পর তার উপলব্ধি হয়, তরুণরাই সেরা। যে কারণে এশিয়ান গেমসে খেলা বেশিরভাগ ফুটবলারকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত টুর্নামেন্টে তো আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন না। জেমিও তাই অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের সংমিশ্রণে দল গড়েছেন।

আর এই দল নিয়েই আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ, ‘এশিয়ান গেমসে সাফল্যের পর প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। আপাতত আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। স্বাগতিক হলেও কোনো চাপ অনুভব করছি না।’ কোচের মতো নাসিরও প্রত্যাশার ফুলঝুরি ফোটাচ্ছেন না, ‘অতীতে ম্যাচের আগে অনেক কথা বলেছিলাম। তবে এবার আমরা বাস্তববাদী। আমরা মাঠে প্রমাণ করতে চাই।’

দুই বছর আগে ভুটানের বিপক্ষে পরাজিত দলে ছিলেন না। লজ্জার ওই হারের কষ্ট নাসিরেরও আছে। তাই তো অতীতের সেই কষ্টটা ভুটানকে হারিয়ে ভুলে যেতে চান তিনি, ‘অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে ভাবছি না। আমরা জয়ের জন্য নামব। অবশ্যই তিন পয়েন্টের জন্য খেলব।’

২০১৬ সালে বাংলাদেশের কোচ ছিলেন না। তবুও প্রশ্ন শুনতে হয়েছে জেমিকে, ‘ভুটানে ২০১৬ সালের ম্যাচে তো আমি ছিলাম না। আর সেই দলের অনেকেই এখন নেই। তাই ওই ম্যাচ নিয়ে কিছু বলতে পারব না।’ একই উত্তর ভুটান কোচ ট্রেভর মরগানেরও, ‘দুই বছর আগের আর এখনকার পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। সেই দলের অনেক খেলোয়াড়ই নেই। আমার কাছে সেই ম্যাচটা এখন অতীত।’ ভুটানের বিপক্ষে সাতবারের লড়াইয়ে চারটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। একটিতে হার এবং বাকি দুই ম্যাচ হয়েছিল ড্র।

সাফের জন্য চার মাস ধরে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্যাম্প করা ছাড়াও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল। এরপর এশিয়ান গেমস। বাংলাদেশে এসে গত মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল। সব মিলিয়ে ফুটবলাররা সবাই খেলার মধ্যে আছেন। লংকানদের কাছে হারে মনোবল কিছুটা ভেঙেছে বলেই ধারণা অনেকের। তা মানছেন না জেমি, ‘শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটি স্রেফ প্রীতি ম্যাচ। আপনারা দেখেছেন, বল বেশিরভাগ সময়ই আমাদের দখলে ছিল। হয়তো গোল করতে পারিনি। সেই ম্যাচ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি আমরা।’

এশিয়ান গেমসে কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক ছিল বাংলাদেশ। নিজেদের রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছিল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও সেই কৌশলে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। তবে এবার গোল করার জন্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলবে বাংলাদেশ। ঘুরেফিরে সবাইকে খেলাবেন বলে জানিয়েছেন জেমি ডে।

Facebook Comments

ক্রীড়া ডেস্ক :: ১০ অক্টোবর ২০১৬ সাল। থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম যেন শোকের সাগর। মামুনুল ইসলাম-সাখাওয়াত হোসেন রনিদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছিল থিম্পুর আকাশ। এএফসি এশিয়ান কাপ প্লে-অফে ভুটানের কাছে ৩-১ গোলের হারে বাংলাদেশের ফুটবলে নেমে আসে অন্ধকার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে চলে যায়। ওই ম্যাচের পর আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৮ মাস।

গত মার্চে লাওসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন মামুনুল ইসলামরা। ভুটানের কাছে হারের কষ্ট আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন আশরাফুল ইসলাম রানারা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে আজ আবারও সেই ভুটান। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টায় চেনচো গিয়েলেটশেনের দলের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। গতকাল বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত ম্যাচ-পূর্ববতী সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরেই এসেছে ভুটান ম্যাচের কথা। নতুন কোচ জেমি ডে এবং ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী অতীতের তিক্ততা ভুলে যেতে যান। সাফ দিয়ে নতুন শুরুর প্রত্যাশা লাল-সবুজের দলটির।

কাগজে-কলমে আজ এগিয়ে ভুটানই। র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ১৮৩ নম্বরে, বাংলাদেশ ১৯৪তম। কিন্তু ফুটবলে তো র‌্যাংকিং বলে কিছু নেই। তা এশিয়ান গেমসে প্রমাণ করেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে উঠেছিল জেমি ডের দল। সে দলটি ছিল অনূর্ধ্ব-২৩। নীলফামারীতে গত ২৯ আগস্ট শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সিনিয়রদের পরখ করতে গিয়ে পার্থক্য বুঝে গেছেন জেমি।

লংকানদের কাছে ১-০ গোলে হারের পর তার উপলব্ধি হয়, তরুণরাই সেরা। যে কারণে এশিয়ান গেমসে খেলা বেশিরভাগ ফুটবলারকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত টুর্নামেন্টে তো আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন না। জেমিও তাই অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের সংমিশ্রণে দল গড়েছেন।

আর এই দল নিয়েই আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ, ‘এশিয়ান গেমসে সাফল্যের পর প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। আপাতত আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। স্বাগতিক হলেও কোনো চাপ অনুভব করছি না।’ কোচের মতো নাসিরও প্রত্যাশার ফুলঝুরি ফোটাচ্ছেন না, ‘অতীতে ম্যাচের আগে অনেক কথা বলেছিলাম। তবে এবার আমরা বাস্তববাদী। আমরা মাঠে প্রমাণ করতে চাই।’

দুই বছর আগে ভুটানের বিপক্ষে পরাজিত দলে ছিলেন না। লজ্জার ওই হারের কষ্ট নাসিরেরও আছে। তাই তো অতীতের সেই কষ্টটা ভুটানকে হারিয়ে ভুলে যেতে চান তিনি, ‘অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে ভাবছি না। আমরা জয়ের জন্য নামব। অবশ্যই তিন পয়েন্টের জন্য খেলব।’

২০১৬ সালে বাংলাদেশের কোচ ছিলেন না। তবুও প্রশ্ন শুনতে হয়েছে জেমিকে, ‘ভুটানে ২০১৬ সালের ম্যাচে তো আমি ছিলাম না। আর সেই দলের অনেকেই এখন নেই। তাই ওই ম্যাচ নিয়ে কিছু বলতে পারব না।’ একই উত্তর ভুটান কোচ ট্রেভর মরগানেরও, ‘দুই বছর আগের আর এখনকার পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। সেই দলের অনেক খেলোয়াড়ই নেই। আমার কাছে সেই ম্যাচটা এখন অতীত।’ ভুটানের বিপক্ষে সাতবারের লড়াইয়ে চারটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। একটিতে হার এবং বাকি দুই ম্যাচ হয়েছিল ড্র।

সাফের জন্য চার মাস ধরে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্যাম্প করা ছাড়াও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল। এরপর এশিয়ান গেমস। বাংলাদেশে এসে গত মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল। সব মিলিয়ে ফুটবলাররা সবাই খেলার মধ্যে আছেন। লংকানদের কাছে হারে মনোবল কিছুটা ভেঙেছে বলেই ধারণা অনেকের। তা মানছেন না জেমি, ‘শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটি স্রেফ প্রীতি ম্যাচ। আপনারা দেখেছেন, বল বেশিরভাগ সময়ই আমাদের দখলে ছিল। হয়তো গোল করতে পারিনি। সেই ম্যাচ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি আমরা।’

এশিয়ান গেমসে কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক ছিল বাংলাদেশ। নিজেদের রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছিল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও সেই কৌশলে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। তবে এবার গোল করার জন্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলবে বাংলাদেশ। ঘুরেফিরে সবাইকে খেলাবেন বলে জানিয়েছেন জেমি ডে।

Facebook Comments

এ জাতীয় আরো খবর